গোপালগঞ্জের ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা মুকসুদপুরে প্রতিদিন শতাধিক ভিক্ষুকের মুখোমুখি হতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে । ভিক্ষা যেন বিনা পূজিঁর ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ভিক্ষার ধরনও পাল্টিয়েছেন ভিক্ষুকরা। তারা এখন ভিক্ষা চাওয়ার বদলে বিভিন্ন অজুহাতে সাহায্য চেয়ে থাকেন।
একাকি কিংবা ছোট ছোট দল বেঁধে মুকসুদপুর উপজেলা সদরের টেংরাখোলা বাজারে ভিক্ষা করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভিক্ষুকেরা। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই পেটের দায়ে এ পেশা বেছে নিয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ শিশু, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী কেউবা সুস্থ মানুষ।
কিন্তু, তাদের অনেকেরই বয়স কম এবং শারীরিকভাবে সুস্থ অথচ বিনা পুজিঁতে এমন ব্যবসা বেছে নিয়েছেন। সকাল হলেই ছুটছেন শহর থেকে গ্রামে। জীবিকার সংগ্রামে হাত বাড়াচ্ছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি ও পথচারিদের কাছে। এমন অসংখ্য ভিক্ষুকের জটলায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন মুকসুদপুরবাসী। দলবেঁধে নেমে ভিক্ষাবৃত্তির এমন দৃশ্য দেখা যায় প্রায় প্রতিদিনই।
দলবেধে ভিক্ষা করতে আসা ভিক্ষুকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনার প্রভাব আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দরিদ্র্য পরিবারে বেড়েছে ভিক্ষাবৃত্তি। এছাড়া শারীরিক অক্ষমতা, পঙ্গুত্ববরণ, বিধবা হওয়া, অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসাসেবা, মেয়েকে পাত্রস্থ ও সন্তানদের কাছে বিতাড়িত হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে এসেছেন তারা।
মুদি ব্যবসায়ী হরিনাথ বলেন, ভিক্ষুকের পরিমান এতো বেশি যে তাদের সামলাতে গিয়ে খরিদ্দার বিরক্ত হয়ে ফেরত যায়। একই কথা বলেন বাজারের অন্য আরেক ব্যবসায়ী রাকিব সরদার।
এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজসেবী সাহিদ সরদার ও সাইফুজ্জামান লিটন বলেন, সমাজ থেকে ভিক্ষুক হ্রাসকল্পে প্রথমত প্রতিবেশীদের সহানুভূতিশীল হতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সুবিধাভোগীদের মাঝে সুষম বন্টন করতে হবে।