সিগারেট খেতে নিষেধ করায় সিনিয়রকে ছাত্রদল কর্মীর মারধর

TOP ALL NEWS TODAY

আজকের সেরা সংবাদ কালেকশন

আজ সারাদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া EXCLUSIVE সংবাদগুলো একসাথে সাজানো হয়েছে।

স্বামীর সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে ফেরা হলো না জুলেখার



সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ফজরের নামাজ শেষে স্বামীর সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে ফেরা হলো না জুলেখা খাতুন নামে এক গৃহবধূর। পেছন থেকে আসা বালুর ট্রাকচাপায় নিহত হন জুলেখা। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী হারুন-অর-রশিদ আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর-সোনামুখী আঞ্চলিক মহাসড়কের ছালাভরা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

হতাহতরা উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের ছালাভরা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আহত হারুন-অর-রশিদকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার ফজর নামাজ শেষে জুলেখা ও তার স্বামী হারুন-অর-রশিদ রাস্তায় হাঁটতে বের হন। হাঁটতে হাঁটতে তারা ছালাভরা বাজার এলাকায় পৌঁছলে বালুবোঝাই একটি ট্রাক তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জুলেখা। গুরুতর আহতবস্থায় জুলেখার স্বামীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কাজিপুর থানার ওসি (তদন্ত) লাল মিয়া কালবেলাকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। ফজরের পরে এ ঘটনা ঘটায় ঘাতক ট্রাকটি শনাক্ত করা যায়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


চাঁদার অভিযোগে সন্তানসহ বিএনপি নেতা আটক, কর্মীদের সড়ক অবরোধ


নাটোরের লালপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা খোকনসহ তার দুই সন্তানকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা লালপুর ত্রিমোহিনী চত্বরে দুই দফায় ৪ ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে যৌথবাহিনীর একটি দল উপজেলার দক্ষিণ লালপুর কলোনি পাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোকনসহ (৫০) তার দুই সন্তান ফিরোজ (৩২) ও অনিককে (২৪) আটক করে লালপুর থানায় সোপর্দ করে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ও দুপুরে এ ঘটনার প্রতিবাদে তাদের মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা দুই দফায় ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। এতে লালপুর-ঈশ্বরদী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঈশ্বরদী-বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি ও তার ভাই জাহাঙ্গীর মেম্বার ওয়ার্ড বিএনপি নেতা খোকনকে মারধর করে একটি মোবাইল ফোন ভেঙে দেয়। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সেই মোবাইল ভাঙচুরের ঘটনা ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে নিষ্পত্তি করেন তারা। সেই ২০ হাজার টাকা লেনদেনের ঘটনা গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন তারা। পরে ভিডিও ক্লিপটি ভাইরাল হলে অভিযান চালিয়ে খোকনসহ তার দুই সন্তান ফিরোজ ও অনিককে বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

খোকনের স্ত্রী রত্না বেগম জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা তাদের বাড়ি ঘিরে ঘরে প্রবেশ করে তার স্বামী খোকনসহ দুই ছেলেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু কালবেলাকে বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাদের আটক করা হয়েছে।

লালপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি দৈনিক কালবেলাকে জানান, আমি ও আমার পরিবার কোনো অভিযোগ করিনি। আমরা ডেভিল হান্ট অভিযানে আটকের ভয়ে বাড়ি ছাড়া।

এ ব্যাপারে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামান কালবেলাকে জানান, ১৫১ ধারায় অপরাধ নিবারণকল্পে অপরাধ প্রতিরোধ আইনে দুপুরে আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ আ.লীগ নেতা এখন বিএনপিতে



আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দলীয়ভাবে কঠোর অবস্থান নিলেও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সুযোগ সন্ধানী কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপিতে পুনর্বাসন করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রঙ বদলে বিএনপিতে ভেড়ার চেষ্টা করেছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতারা।

এই তালিকায় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের কমপক্ষে এক ডজন নেতাকর্মী রয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতারা ছাড়াও তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এর মধ্যে অন্যতম আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সাত্তার। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ও তার নিকট প্রতিবেশী। পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার সখ্য বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ ও জেলা বিএনপির সদ্য নির্বাচিত সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আজাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা সাত্তার একাধিক ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার দেওয়ায় বিএনপিতে অনুপ্রবেশের বিষয়টি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নজরে আসে। এতে বিএনপি নেতারা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এ নিয়ে উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবদুস সাত্তার উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার রাজনৈতিক খরচের জোগানদাতা। এছাড়াও কাদের মির্জার হেলমেট বাহিনীর অন্যতম সদস্য সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মিকনের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় এক গণমাধ্যম কর্মী তার ফেসবুক আইডিতে একটি ছবি দিয়ে লিখেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সঙ্গে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেখা করলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আলহাজ আবদুস সাত্তার।’

মুহূর্তে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সাত্তারের সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি ঘোষিত জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আজাদের কাছে ফুল নিয়ে হাজির হন তিনি। এতে উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুস সাত্তার আওয়ামী লীগের পদে থাকার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, যারা এসব মন্তব্য করেছে, তারা ছোট ভাই। অনেকে মন্তব্য করছে করুক। আমি স্কুল জীবন থেকে ছাত্রদল করি, কলেজ ছাত্রদলে ও ইউনিয়নে দায়িত্বে ছিলাম। আমাদের অতিউৎসাহী কিছু ছোট ভাই যাদের আমি স্নেহ করি তারা এসব বলে বেড়াচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদার বলেন, এটা সত্য যে, সাত্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ওবায়দুল কাদেরের স্টেজে ছিল, আওয়ামী লীগের স্টেজে ছিল। সাত্তারকে বিএনপিতে ভেড়াতে আমাদের কারও কারও সম্পৃক্তা থাকতে পারে। তবে আমার কোনো সম্পৃক্তা নেই। ২-৩টি মিটিং থেকে আমি সাত্তারকে বের করে দিয়েছি। একেবারে অথেনটিক হলো আমাদের আবেদ ভাই সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রামে ত্রাণ বিতরণ করছিল। ওখানে সে যখন গিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ায় আমি তাকে ওখান থেকে বের করে দিয়েছি। এর পরও ২-১টি জায়গা থেকে আমি তাকে বের করে দিয়েছি। এরপর দেখলাম আমি বের করে দেওয়ার পর আমাদের অনেকে অসন্তুষ্ট হয়। পরে আমি কী করব, আমি একজন তো আর ৫০ জনের সঙ্গে পারব না।

নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আজাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি। তাই এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ কালবেলাকে বলেন, ওই ব্যক্তি আমাকে একটি ওয়াজ মাহফিলের দাওয়াত দিতে ঢাকায় গিয়ে আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলে। এটা নিয়ে তৃণমূল রিয়্যাক্ট করলে আমি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদারকে জিজ্ঞেস করি- সাত্তার আওয়ামী লীগ করত এটা যদি সত্য হয় তাহলে ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানার নেতারা তাকে যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করাচ্ছে; এগুলো আগে কেন সুরাহা হয়নি। আমার পর্যন্ত সে কেন এলো। জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে কেন ফুল দিল।

লিফটে সিগারেট খেতে নিষেধ করায় সিনিয়রকে ছাত্রদল কর্মীর মারধর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ হলের লিফটে সিগারেট খেতে নিষেধ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হলের ৪ নম্বর লিফটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ হলের প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত ওই ছাত্রদল নেতার নাম পারভেজ মোশাররফ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম নাইমুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী নাইমুর রহমান দূর্জয় বলেন, আমার ভর্তিচ্ছু এক ক্যান্ডিডেট আসায় তাকে বিদায় দিয়ে রুমে ফিরছিলাম। আমি তাজউদ্দীন হলের ৪নং লিফটে উঠি তখন একটি ছেলে সিগারেট হাতে লিফটে আসেন। কাউকে লিফটে সিগারেট খেতে দেখলে প্রভোস্ট স্যার ছবি তুলে রাখতে বলেছিলেন। আমি পরিচয় জিজ্ঞাসা করে পকেট থেকে ফোন বের করতেই সে তুই-তোকারি শুরু করে ও আমার উপর চড়াও হয়। আমি সিনিয়র হিসেবে পরিচয় দিলে সে আমাকে শিবির বলে মারধর করে এবং আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে ছাত্রদল সদস্য।

অভিযুক্ত পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লুৎফুল এলাহী বলেন, আমাকে ফোন দিয়েছিলেন ওই শিক্ষার্থী। ঘটনাটি আমি জেনেছি। আমাদের হল অফিস বন্ধ আছে। রোববার খুলবে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে একটা তদন্ত কমিটি করব। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ববিতে আন্দোলনরতদের শিবির ট্যাগের অভিযোগে সমন্বয়কের ওপর হামলা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ভিসিবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শিবির ট্যাগের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও মারধর করেছে একদল শিক্ষার্থী। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভিসি গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মো. ইমরান আল আমিন রসায়ন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

জানা যায়, জুমার নামাজের পরপরই উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন শিক্ষার্থীরা। এসময় স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের অভিযোগে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলন শেষ হলে ভুক্তভোগী ইমরানকে ডাকেন একদল শিক্ষার্থী। সেখানে কয়েকদফায় শিবির ট্যাগ নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। পরে তৎক্ষণাৎ তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করা হয়।

ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে অভিযুক্তদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে। তারা হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (ভর্তি শিক্ষাবর্ষ) জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ, কোস্টাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম (রকি) ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত।

ভুক্তভোগী ইমরান আল আমিন বলেন, আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। মাথায় আঘাত পাওয়ায় আমি ঠিকমতো কথা বলতে পারছি না। আমার ওপর হামলাকারী ও ইন্ধনদাতাদের বিচার চাই।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলাম রকি হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি হামলা বা মারধর করিনি। ঘটনাস্থলের একপাশে দাঁড়িয়েছিলাম।

অপর অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। অথচ ইমরান উপাচার্যের পক্ষে হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছে এবং স্বৈরাচারের দালালি করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শিবির ট্যাগ দিয়েছে। সেজন্য শিক্ষার্থীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এটিএম রফিকুল ইসলামের কাছে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

যে ৩ দেশের রাজনৈতিক দলের আদলে আসছে ছাত্রদের নতুন দল


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি ও ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম-আদমি পার্টির উত্থান কাঠামোর প্রতি দৃষ্টি রেখেই গড়ে তোলা হচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ বিষয়ে জানানো হয়।

পোস্টে বলা হয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি ও ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম-আদমি পার্টির উত্থান ও তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলা এবং তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও বিস্তারকে পর্যালোচনা করে পার্টিগুলোর কাঠামোর প্রতি দৃষ্টি রেখেই গড়ে তোলা হচ্ছে ছাত্রদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল। ঘোষণা আসছে শিগগিরই।

সম্প্রতি এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, আমরা একটা মধ্যমপন্থি রাজনীতির কথা বলছি। আমরা বাম-ডান এমন যে বিভাজন আছে সেগুলোতে ঢুকতে চাই না। আমরা বাংলাদেশ প্রশ্নে এক থাকতে চাই। ইসলাম ফোবিয়ার রাজনীতি অথবা উগ্র ইসলামপন্থি বা উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মধ্যেও আমরা নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে সাম্য, ন্যায়বিচার এবং সুশাসনের কথা বলছি। এটাকেই হাইলাইট করতে চাই। একইসঙ্গে একটা রাষ্ট্রে যে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বসবাস করে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে, সেই বহুত্ববাদকে স্বীকার করেই কীভাবে একটা এগ্রিমেন্টের মধ্য দিয়ে এগোনো যায় যেভাবে আমরা অভ্যুত্থানে এগিয়েছি, সেটা হচ্ছে আমাদের মূল ফোকাস পয়েন্ট।

আখতার হোসেন বলেন, আমরা ডানের দিকেও ঝুঁকব না, বামের দিকেও ঝুঁকব না। সাম্য, ন্যায়বিচার, সুশাসনকে ঘিরে আমরা হবো একটা মধ্যপন্থি দল যেন আমরা সব ধরনের মানুষকে ধারণ করতে পারি।

আর এদিকে দলের হাল ধরতে চলতি মাসের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন নাহিদ ইসলাম।

দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা যারা গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম, মূলত ছাত্ররাই এটার নেতৃত্বে ছিল। ছাত্র এবং গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে একটা নতুন রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা বা আলোচনা রয়েছে। সেই দলে যদি অংশগ্রহণ করতে হয় তবে অবশ্যই সরকারে থেকে সেটা সম্ভব না। সে দলে যদি আমি যেতে চাই তবে সরকার থেকে আমি পদত্যাগ করব।

তিনি বলেন, বর্তমানে যেহেতু সরকারে একটা স্থিতিশীলতা এসেছে, যদিও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ হয়নি, কিন্তু সেটা চলমান আছে। আমাদের এখন রাজনৈতিক দলের কাজটা বেশি জরুরি। সেখানে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিন্তাভাবনা করছি। যদি সরকারে থাকার চেয়ে জনগণের সঙ্গে মাঠে কাজ করাটা বেশি জরুরি মনে হয় তাহলে আমি সরকার ছেড়ে দেব এবং হয়তো সে দলের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হব।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ঘোষণা হয়েছে যে, এ মাসেই দল গঠন হবে। যদি তাই হয় তবে এ মাসেই সরকার ছেড়ে দলে অংশ নিব।

তিনি বলেন, আর কয়েক দিনের মধ্যেই একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবাই পবেন, আপনারা জানতে পারবেন।


অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু : প্রধান উপদেষ্টা


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে; আজ রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হলো।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস এ কথা বলেন। বৈঠক এখনো চলছে।

আসরের নামাজের বিরতি চলাকালে প্রধান উপদেষ্টার এ বক্তব্যের কথা সাংবাদিকদের জানান তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। আজ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংলাপ শুরু হয়েছে। বলা যায়, এটা প্রস্তুতিমূলক সভা।অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক ২৬টি দল ও জোটের প্রায় ১০০ রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। আজ বিকেল ৩টার পরপর ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, লিবারেশন ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমদ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হালদার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুব্রত চৌধুরী, জাতীয়তা বাদী সমমনা জোট ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতারা এসেছেন।

বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বক্তব্য দেবেন।

বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে লাশ হলেন জুনায়েদ



বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর জুনায়েদ আহম্মেদ (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দলের সদস্যরা।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর বানিয়াজান বাঁধ এলাকা থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

জুনায়েদ আহম্মেদ শেরপুর টাউন কলোনির জাহিদুল ইসলামের ছেলে। সে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর টাউন কলোনি এলাকার মাফিজ ইকবাল (১৮), সোয়েব আহম্মেদ (১৮) ও অওফি হাসান (১৮) ও জুনায়েদ আহম্মেদ শুক্রবার বিকেল ৪টায় যমুনা নদীর বানিয়াজান স্পার এলাকায় বেড়াতে যায়। এরপর যমুনা নদীতে নেমে মোবাইল ফোনে সেলফি তুলতে থাকে তারা। একপর্যায়ে অসাবধাণতাবসত যমুনা নদীতে পড়ে ডুবে যায় ৪ বন্ধু। এ সময় সেখানকার অন্য ভ্রমণকারীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকার সাহায্যে ৩ বন্ধুকে জীবিত উদ্ধার করে। কিন্তু ওই সময় জুনায়েদ আহম্মেদকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পরে শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাজশাহী থেকে আগত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও বেসকাররি ডুবুরি দলের সদস্যরা নিখোঁজ জুনায়েদ আহম্মেদকে উদ্ধারের অভিযান চালায়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টায় বেসরকারি ডুবুরি দলের সদস্যরা জাল দিয়ে জুনায়েদের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

ধুনট ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার হামিদুল ইসলাম বলেন, যৌথ উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে বেসরকারি ডুবুরি দলের সদস্যদের জালে উদ্ধার হয়েছে জুনায়েদ আহম্মেদের মৃতদেহ।

ধুনট থানার ওসি সাইদুল আলম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে জুনায়েদের মৃতদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


অটোরিকশার সঙ্গে প্রাণও গেল নিখোঁজ কিশোরের



গাজীপুরের সদর উপজেলায় গভীর গজারি বনের ভেতর থেকে রাসেল বেপারী (১২) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে।


শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার রুদ্রপুর পূর্বপাড়া এলাকার বনের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


নিহত রাসেল বেপারী রুদ্রপুর মধ্যপাড়া এলাকার স্থানীয় মৃত কাদির বেপারীর ছেলে। সে হোতাপাড়া থেকে আরপি গেট সড়কে অটোরিকশা চালাতেন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে রাসেল অটোরিকশা নিয়ে বের হন। রাতে তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। পরে শনিবার ভোরে স্থানীয়রা বনের ভেতর একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।


জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতের অটোরিকশাটি খোয়া গেছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ইজতেমায় হামলার গুজব, আটক ব্যক্তিকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেছেন, বিশ্ব ইজতেমার মাঠে হামলার গুজব ছড়ানোর অভিযোগে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। যদি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি না পারেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে স্থাপিত জিএমপি কন্ট্রোল রুমের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

জিএমপি কমিশনার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইজতেমায় হামলার গুজব ছড়ানো হয়েছে। আমরা সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছি। তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমরা দেখতে চাই, তিনি আদৌও এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না।

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আনা ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল করিম বলেন, ‘এখনি পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদি তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তার পরিচয় প্রকাশ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে এলটি দলের একটি সংগঠনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে তাকে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি এবং তিনি কোনো বড় সংগঠনের প্রভাবশালী সদস্য নন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিষয়ে জিএমপি কমিশনার বলেন, মাঠে বিপুলসংখ্যক ভলান্টিয়ার কাজ করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চারপাশে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই রাস্তাগুলো খালি রাখতে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। তারা প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই— ইজতেমায় অংশ নেওয়া ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যেন নির্বিঘ্নে ইবাদত ও দোয়া করতে পারেন।

আগামীকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমা। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি বাদ মাগরিব প্রশাসনের কাছে ময়দান বুঝিয়ে দেবেন মাওলানা সাদ অনুসারীরা।

নবীনতর পূর্বতন