পাকিস্তানের তোপের মুখে ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্ত্র মোদি আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য চেষ্টা করতে হবে পাকিস্তানকে। তাদের মাটি ব্যবহার করে যাতে সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী হামলা কেউ চালাতে না-পারে, পাকিস্তানকেই তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে পাকিস্তানের উল্লেখ করাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির বিদেশ বিষয়ক মুখপাত্র শাফকাত আলি খান। তিনি আজ শুক্রবার জানান, এই ধরনের বিষয়ে পাকিস্তানের উল্লেখে তিনি বিস্মিত। পাকিস্তান যে আত্মত্যাগ করেছে, তাকে গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছে না। শাফকাতের দাবি, মোদি-ট্রাম্পের বিবৃতি ‘একতরফা এবং বিভ্রান্তিকর’। এই ধরনের মন্তব্য ‘কূটনৈতিক নিয়মের পরিপন্থী’ বলেও দাবি করেছেন তিনি।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের মদদ দেয়ার অভিযোগ নিয়মিতই এনে থাকে ভারত। ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির বৈঠকের পর এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পরেই ২৬/১১ মুম্বাই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাহাউর রানাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান ট্রাম্প। বলেন, “বিশ্বের অন্যতম শত্রু, যিনি ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলায় জড়িত, তাকে বিচারের সম্মুখীন হওয়ার জন্য ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তাহাউর পাক বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক। বর্তমানে ক্যালিফর্নিয়ার জেলে তিনি বন্দি। কিছু দিন আগে তাকে ভারতে প্রত্যর্পণে সায় দিয়েছিল আমেরিকার আদালত। তাহাউর সম্পর্কে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে বার্তা দেয় দুই দেশ।
চেয়ার নিয়ে যত আলোচনা

আয়নাঘরের সেই ইলেকট্রিক চেয়ার নিয়ে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সেই ইলেকট্রিক চেয়ারে জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক রফিকুল ইসলাম মাদানিকে বসানো হয়েছিল বলে তিনি নিজেই দাবি করেছেন। তবে যারা আয়নাঘর ঘুরে এসেছেন, তারা বলছেন, সেটিকে প্রথমে অনেকেই ইলেকট্রিক শক চেয়ার ভেবে ভুল করেছেন।
মূলত এটাতে হাত-পা মাথায় বেঁধে জোরে ঘুরানো হতো। আর এটা ইলেকট্রিক, তার প্রমাণ আছে- এটার সঙ্গে লাগানো তারের লেজ ছিল। মানে তার কেটে ফেলার পরও কিছু তার রয়ে গেছে। যেহেতু রিভলভিং চেয়ার শাস্তির সঙ্গে পরিচিত না, তাই অনেকে এটাকে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার চেয়ার ভেবেছেন।
জানা গেছে, গুম কমিশন এই চেয়ারটা অনেক কষ্ট করে খুঁজে পেয়েছে। এটা লুকানো ছিল। কেউ কেউ বলছেন, এটি ইলেকট্রিক চেয়ার না। এই চেয়ারে বসিয়ে ভুক্তভোগীকে শক দেওয়া হতো না। এটি রিভলভিং চেয়ার, নিচে মোটর ফিট করা (একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যে চেয়ারটি ঘোরে)। ভুক্তভোগীকে এই চেয়ারে বসিয়ে তার হাত-পা আটকিয়ে মোটরের সাহায্যে ফ্যানের মতো ঘুরিয়ে শাস্তি দেওয়া হতো। একটু খেয়াল করলে দেখা যায়- চেয়ারের নিচে হুকের মতো আছে।
এতে নাট-বল্টুর সাহায্যে ফ্লোরে আটকে রাখা হতো। আয়নাঘর নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালাগুলোর মধ্যে তিনটি পরিদর্শনের পর এগুলোকে ‘ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মী এবং কয়েকজন উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ‘আয়না ঘর’ পরিদর্শন করেন।
যাত্রীবাহী বাসে ছিনতাই, ছুরিকাঘাতে আহত ৩
ঢাকার অদূরে সাভারের পুলিশ টাউন এলাকায় দিন দুপুরে যাত্রীবাহী বাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বাসটিতে ছিনতাইকালে বাধা দিতে গিয়ে তিন সাধারণ যাত্রী ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহত তিনজনকেই ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পুলিশ টাউন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুভযাত্রা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি মানিকগঞ্জ থেকে ছেড়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। দুপুরের পর বাসটি পুলিশ টাউন এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে সেতুর কয়েক মিটার আগে বাসটিতে যাত্রী ওঠানোর জন্য চালক থামালে সেখান থেকে ধারালো চাকু হাতে বাসটিতে দুজন ব্যক্তি উঠে। পরে সামনের সারির মহিলা যাত্রীসহ অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে সোনার চেন, মোবাইল, মানিব্যাগসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। পরে ছিনতাইকারীরা যখন পেছনের দিকে গিয়ে যাত্রীদের মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তখন কয়েকজন বাধা দিলে তারা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী এক নারী যাত্রী বলেন, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাসে উঠি। আমাদের বাসটি পুলিশ টাউন এলাকার সামনে গেলে যাত্রীবেশে কয়েকজন ছিনতাইকারী বাসটিতে উঠে পড়ে। পরে তারা কয়েকজনের মোবাইল, মানিব্যাগসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। তাদের ছিনতাইয়ে বাধা দিতে গিয়ে বাসটিতে থাকা কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আলকামা আজাদ নামে বাসের অপর যাত্রী বলেন, ছিনতাইয়ে বাধা দিতে গেলে বাসটির চালকের সহকারীসহ আরও কয়েকজন ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন। বাসটিতে সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিল।
সাভার মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া কালবেলাকে বলেন, বাসে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দলকে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। এসব ছিনতাইকারীকে ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন, সমালোচনার ঝড় -
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ভুলভাবে উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশ করেছে প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিকসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর শিরোনাম করা হয়েছে; যাতে জনমনে ভুল বার্তা যায়।
গণমাধ্যমে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশের বিষয়টি নজরে এনেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহর একটি স্ট্যাটাস নিজের ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট করেছেন।একই পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহর পোস্টটি ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল ওই পোস্টে সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোদির বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ট্রাম্প যা বলেছে, সেটাকে কয়েকটা মিডিয়া ভুল ভেবে প্রচার করছে। ডেইলি স্টার বাংলা ভার্সনে যেমন হেডিং দিয়েছে— ‘বাংলাদেশের বিষয়গুলো মোদির হাতে ছেড়ে দিচ্ছি: ট্রাম্প’
ডেইলি স্টারকে দেখাদেখি আরও কয়েকটা মিডিয়াও একই টাইপ মিসলিডিং শিরোনাম দিচ্ছে। তাদের এসব শিরোনাম দেখে এবং নিউজ দেখে মনে হচ্ছে ট্রাম্প যেন মোদিকে দায়িত্ব দিয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশ ইস্যু ডিল করার জন্য।
তিনি বলেন, আপনারা যারা এ নিউজটা করবেন, খুব মনোযোগ দিয়ে অনলাইন থেকে ওই ভিডিওটা দেখবেন। ইংলিশের ওপর মোটামুটি লেভেলের দক্ষতা থাকলেই বুঝবেন সেখানে কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে কনভারসেশন চলছিল।
ট্রাম্পকে এক ইন্ডিয়ান সাংবাদিক যে প্রশ্নটা করেছিল, তার সামারি হলো— বাইডেন প্রশাসনের সময় বাংলাদেশে রেজিম চেঞ্জ (হাসিনার পতন) ইস্যুতে আমেরিকার ডিপ স্টেটের ভূমিকা আছে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী? উত্তরে ট্রাম্প বলেছে— না, আমেরিকার ডিপস্টেটের কোনই ভূমিকা নাই। এবং তারপর চোখেমুখে বিরক্তি নিয়ে মোদির দিকে ইঙ্গিত করে (যেহেতু ইন্ডিয়ান সাংবাদিক মনগড়া তত্ত্ব প্রচার করতে চাচ্ছিল, তাই ইন্ডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর দিকেই তাকে রেফার করে দিয়ে) ট্রাম্প বলেছেন বাংলাদেশ ইস্যুতে ওই প্রশ্নের উত্তরটা মোদির ওপর ছেড়ে দিলাম! মানে, বাংলাদেশ সংক্রান্ত ওই প্রশ্নটার উত্তর মোদিকে দিতে বলেছিলেন ট্রাম্প। এই হলো ঘটনার সামারি।
শিরোনামের সমালোচনা করে সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ বলেন, চিন্তা করেন যারা এই হেডলাইন করছে যে– বাংলাদেশের বিষয়গুলো মোদির হাতে ছেড়ে দিচ্ছি, তারা ঠিক কী বুঝে এই শিরোনাম করছে? অন্যদের কথা বাদ। ডেইলি স্টার ইংলিশ টু বাংলা অনুবাদ পারে না— এটা আমি বিশ্বাস করি না। ইচ্ছাকৃতভাবে এভাবে জনগণকে ম্যানিপুলেট কেন করতে চান আপনারা? আর অন্য যেসব মিডিয়া এই টাইপ কাজ করতেছেন, জাস্ট ধুপধাপ কপি-পেস্ট না করে একটু কনভারসেশনটা শুনে আসুন। শুনে তারপর খবর প্রকাশ করুন।
তিনি আরও বলেন, এখন কিন্তু আর ওই যুগ নাই যে, যেমন খুশি তেমন মিসইন্টারপ্রেট করে জনগণকে যা গেলাইতে চাইবেন, জনগণ সেটাই গিলবে! অনেক সুযোগসন্ধানী লোকজন আছেন, যারা এই খবরটা ম্যানিপুলেট করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করবে।
দেশপ্রেমিক সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ বলেন, আপনারা সত্যটা প্রচার করুন এবং সঠিক সংবাদ পরিবেশন করে সবার কাছে প্রকৃত সত্যটা উপস্থাপন করুন। এতে করে যারা মিসলিডিং শিরোনাম দেখে বিভ্রান্ত হওয়া থেকে সবাই সচেতন থাকতে পারবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের বিভ্রান্তিকর শিরোনামের সমালোচনা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব সাংবাদিক মারুফ কামাল খানও। ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে কী বলেছিলেন তা তুলে ধরে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
‘বুঝেন অ্যালায়’ শিরোনামে মারুফ কামাল লেখেন, ‘নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে ভারতীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনে আমেরিকার ডিপ স্টেটের কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং মোদি বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করছেন। আমি তো পড়েছি শত শত বছর ধরে কাজ চলছে। কাজেই বাংলাদেশের ব্যাপারে জবাব দেওয়ার দায়িত্ব আমি মোদির হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের ভুল অনুবাদ করা হয়েছে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস উইংয়ে মিনিস্টার (প্রেস) সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা বলেন, ‘But I will leave Bangladesh to the Prime Minister.’ ট্রাম্পের বক্তব্যের এই লাইনটির অনুবাদ অনেকে করছে এভাবে যে, ‘বাংলাদেশের বিষয় মোদির হাতে ছেড়ে দিচ্ছি’।এটা শতভাগ ভুল অনুবাদ।এমন কাজ কেউ করেছেন না বুঝে সরলভাবে, কেউ করেছেন উদ্দেশমূলকভাবে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলারও প্রথম অনুবাদ ভুল ছিল।ভালো যে, পরবর্তীতে তারা সংশোধন করেছে।
তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে এই বাক্যটি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, এই প্রশ্নটি আমি মোদির হাতে ছেড়ে দিচ্ছি। মানে এই প্রশ্নের উত্তর তিনি মোদিকে দিতে বলেছেন। এবং মোদি বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি। ট্রাম্প বাংলাদেশকে মোদির হাতে ছেড়ে দেন নাই।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ভুলভাবে উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশ করেছে প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিকসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর শিরোনাম করা হয়েছে; যাতে জনমনে ভুল বার্তা যায়।
গণমাধ্যমে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশের বিষয়টি নজরে এনেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহর একটি স্ট্যাটাস নিজের ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট করেছেন।একই পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহর পোস্টটি ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল ওই পোস্টে সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোদির বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ট্রাম্প যা বলেছে, সেটাকে কয়েকটা মিডিয়া ভুল ভেবে প্রচার করছে। ডেইলি স্টার বাংলা ভার্সনে যেমন হেডিং দিয়েছে— ‘বাংলাদেশের বিষয়গুলো মোদির হাতে ছেড়ে দিচ্ছি: ট্রাম্প’
ডেইলি স্টারকে দেখাদেখি আরও কয়েকটা মিডিয়াও একই টাইপ মিসলিডিং শিরোনাম দিচ্ছে। তাদের এসব শিরোনাম দেখে এবং নিউজ দেখে মনে হচ্ছে ট্রাম্প যেন মোদিকে দায়িত্ব দিয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশ ইস্যু ডিল করার জন্য।
তিনি বলেন, আপনারা যারা এ নিউজটা করবেন, খুব মনোযোগ দিয়ে অনলাইন থেকে ওই ভিডিওটা দেখবেন। ইংলিশের ওপর মোটামুটি লেভেলের দক্ষতা থাকলেই বুঝবেন সেখানে কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে কনভারসেশন চলছিল।
ট্রাম্পকে এক ইন্ডিয়ান সাংবাদিক যে প্রশ্নটা করেছিল, তার সামারি হলো— বাইডেন প্রশাসনের সময় বাংলাদেশে রেজিম চেঞ্জ (হাসিনার পতন) ইস্যুতে আমেরিকার ডিপ স্টেটের ভূমিকা আছে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী? উত্তরে ট্রাম্প বলেছে— না, আমেরিকার ডিপস্টেটের কোনই ভূমিকা নাই। এবং তারপর চোখেমুখে বিরক্তি নিয়ে মোদির দিকে ইঙ্গিত করে (যেহেতু ইন্ডিয়ান সাংবাদিক মনগড়া তত্ত্ব প্রচার করতে চাচ্ছিল, তাই ইন্ডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর দিকেই তাকে রেফার করে দিয়ে) ট্রাম্প বলেছেন বাংলাদেশ ইস্যুতে ওই প্রশ্নের উত্তরটা মোদির ওপর ছেড়ে দিলাম! মানে, বাংলাদেশ সংক্রান্ত ওই প্রশ্নটার উত্তর মোদিকে দিতে বলেছিলেন ট্রাম্প। এই হলো ঘটনার সামারি।
শিরোনামের সমালোচনা করে সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ বলেন, চিন্তা করেন যারা এই হেডলাইন করছে যে– বাংলাদেশের বিষয়গুলো মোদির হাতে ছেড়ে দিচ্ছি, তারা ঠিক কী বুঝে এই শিরোনাম করছে? অন্যদের কথা বাদ। ডেইলি স্টার ইংলিশ টু বাংলা অনুবাদ পারে না— এটা আমি বিশ্বাস করি না। ইচ্ছাকৃতভাবে এভাবে জনগণকে ম্যানিপুলেট কেন করতে চান আপনারা? আর অন্য যেসব মিডিয়া এই টাইপ কাজ করতেছেন, জাস্ট ধুপধাপ কপি-পেস্ট না করে একটু কনভারসেশনটা শুনে আসুন। শুনে তারপর খবর প্রকাশ করুন।
তিনি আরও বলেন, এখন কিন্তু আর ওই যুগ নাই যে, যেমন খুশি তেমন মিসইন্টারপ্রেট করে জনগণকে যা গেলাইতে চাইবেন, জনগণ সেটাই গিলবে! অনেক সুযোগসন্ধানী লোকজন আছেন, যারা এই খবরটা ম্যানিপুলেট করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করবে।
দেশপ্রেমিক সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ বলেন, আপনারা সত্যটা প্রচার করুন এবং সঠিক সংবাদ পরিবেশন করে সবার কাছে প্রকৃত সত্যটা উপস্থাপন করুন। এতে করে যারা মিসলিডিং শিরোনাম দেখে বিভ্রান্ত হওয়া থেকে সবাই সচেতন থাকতে পারবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের বিভ্রান্তিকর শিরোনামের সমালোচনা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব সাংবাদিক মারুফ কামাল খানও। ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে কী বলেছিলেন তা তুলে ধরে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
‘বুঝেন অ্যালায়’ শিরোনামে মারুফ কামাল লেখেন, ‘নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে ভারতীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনে আমেরিকার ডিপ স্টেটের কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং মোদি বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করছেন। আমি তো পড়েছি শত শত বছর ধরে কাজ চলছে। কাজেই বাংলাদেশের ব্যাপারে জবাব দেওয়ার দায়িত্ব আমি মোদির হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের ভুল অনুবাদ করা হয়েছে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস উইংয়ে মিনিস্টার (প্রেস) সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা বলেন, ‘But I will leave Bangladesh to the Prime Minister.’ ট্রাম্পের বক্তব্যের এই লাইনটির অনুবাদ অনেকে করছে এভাবে যে, ‘বাংলাদেশের বিষয় মোদির হাতে ছেড়ে দিচ্ছি’।এটা শতভাগ ভুল অনুবাদ।এমন কাজ কেউ করেছেন না বুঝে সরলভাবে, কেউ করেছেন উদ্দেশমূলকভাবে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলারও প্রথম অনুবাদ ভুল ছিল।ভালো যে, পরবর্তীতে তারা সংশোধন করেছে।
তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে এই বাক্যটি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, এই প্রশ্নটি আমি মোদির হাতে ছেড়ে দিচ্ছি। মানে এই প্রশ্নের উত্তর তিনি মোদিকে দিতে বলেছেন। এবং মোদি বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি। ট্রাম্প বাংলাদেশকে মোদির হাতে ছেড়ে দেন নাই।
মোদি-ট্রাম্প বৈঠক
ভারতকে এফ৩৫ যুদ্ধবিমান দেবে যুক্তরাষ্ট্র
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেছেন। এই বৈঠকে ট্রাম্প ভারতে এফ৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
সাক্ষাতের পর মোদির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এ বছর ভারতে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বাড়ানো হবে। আমরা এফ৩৫ বিমান বিক্রির দিকে এগোচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ভারত ন্যাটোর মিত্র দেশ ইসরায়েল ও জাপানের মতো এফ৩৫ বিমান কেনার অনুমতি পাবে। মোদি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি হবে। তিনি আশা করেন, নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি, শুল্কে ছাড় এবং চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাণিজ্যযুদ্ধ থামাতে সাহায্য করবে।
মোদি উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থ সবকিছুর উপরে রাখা উচিত- এটা তিনি ট্রাম্পের কাছ থেকে শিখেছেন। তিনিও ভারতের জাতীয় স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), যুদ্ধযান ও জেট ইঞ্জিন ক্রয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন কৃষিপণ্য রপ্তানি, পারমাণবিক শক্তি ও অন্যান্য খাতে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা হতে পারে। ট্রাম্প আশা করছেন, এ বছরের মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি হবে।
এ সময় ট্রাম্প ভারতের কাছ থেকে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে আরও সাহায্য চেয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেছেন। এই বৈঠকে ট্রাম্প ভারতে এফ৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
সাক্ষাতের পর মোদির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এ বছর ভারতে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বাড়ানো হবে। আমরা এফ৩৫ বিমান বিক্রির দিকে এগোচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ভারত ন্যাটোর মিত্র দেশ ইসরায়েল ও জাপানের মতো এফ৩৫ বিমান কেনার অনুমতি পাবে। মোদি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি হবে। তিনি আশা করেন, নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি, শুল্কে ছাড় এবং চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাণিজ্যযুদ্ধ থামাতে সাহায্য করবে।
মোদি উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থ সবকিছুর উপরে রাখা উচিত- এটা তিনি ট্রাম্পের কাছ থেকে শিখেছেন। তিনিও ভারতের জাতীয় স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), যুদ্ধযান ও জেট ইঞ্জিন ক্রয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন কৃষিপণ্য রপ্তানি, পারমাণবিক শক্তি ও অন্যান্য খাতে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা হতে পারে। ট্রাম্প আশা করছেন, এ বছরের মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি হবে।
এ সময় ট্রাম্প ভারতের কাছ থেকে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে আরও সাহায্য চেয়েছেন।
ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে ছাত্রশিবিরের স্ট্যাটাস
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ সংশ্লিষ্ট একটি পোস্ট দেয় তারা।
পোস্টে সংযুক্ত ফটোকার্ডে লেখা ছিল, ওরা আমাদের সামাজিক বন্ধন কেড়ে নিতে চায়। ভ্যালেন্টাইন আমাদের সংস্কৃতি নয়।
এর আগে, এদিন সকালে ছাত্রশিবিরের পেজ থেকে আরও একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। যেখানে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলা হয়, ‘সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ, আপনার ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে সময় ব্যয় করুন। সন্তানকে একা ছেড়ে দেবেন না। ভ্যালেন্টাইন আমাদের সংস্কৃতি নয়।
ভালোবাসা দিবসকে না বলুন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ করুন।’এছাড়া বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ছাত্রশিবির তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আরেকটি ফটোকার্ড শেয়ার করেছিল। এতে লেখা ছিল, ভ্যালেন্টাইন আমাদের সংস্কৃতি নয়। ভালোবাসা দিবসকে না বলুন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ করুন।

মূলত, ভ্যালেন্টাইন ডে’র গল্পটি শুরু হয় অত্যাচারী রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াস এবং খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে দিয়ে। তৃতীয় শতকে সম্রাট ক্লাডিয়াস সমগ্র রোমানবাসীকে ১২জন দেব-দেবীর আরাধনা করার নির্দেশ দেন। সেসময় খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা ছিলো কাঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি খ্রিস্টানদের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো।
এদিকে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন খ্রিস্টধর্মের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। মৃত্যুর ভয়ে তিনি খ্রিস্টধর্ম পালনে পিছপা হননি। কিন্তু যা হবার তাই হলো, সম্রাট ক্লাডিয়াস তাকে কারাগারে বন্দি করে রাখলেন।
ভ্যালেন্টাইনের জীবনের শেষ সপ্তাহগুলোতে ঘটলো এক জাদুকরী ঘটনা। তিনি যে কারাগারে বন্দি ছিলেন সেখানকার কারারক্ষী ভ্যালেন্টাইনের প্রজ্ঞা দেখে মুগ্ধ হন। কারারক্ষী ভ্যালেন্টাইনকে জানান, তার মেয়ে জুলিয়া জন্মগতভাবেই অন্ধ, ভ্যালেন্টাইন তাকে একটু পড়ালেখা করাতে পারবেন কিনা।
জুলিয়া চোখে দেখতে পেতেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন খুব বুদ্ধিমতী। ভ্যালেন্টাইন জুলিয়াকে রোমের ইতিহাস পড়ে শোনাতেন, পাটিগণিত শেখাতেন। মুখে মুখে প্রকৃতির বর্ণনা ফুটিয়ে তুলতেন ও ঈশ্বর সম্পর্কে বিস্তারিত বলতেন। জুলিয়া ভ্যালেন্টাইনের চোখে দেখতেন অদেখা পৃথিবী। তিনি ভ্যালেন্টাইনের জ্ঞানকে বিশ্বাস করতেন, ভ্যালেন্টাইনের শান্ত প্রতিমূর্তি ছিলো জুলিয়ার শক্তি।
একদিন জুলিয়া ভ্যালেন্টাইনকে জিজ্ঞেস করেন- - ভ্যালেন্টাইন, সতিই কি ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনা শোনেন? - হ্যাঁ, তিনি সবই শোনেন। - জানো, রোজ সকাল আর রাতে আমি কি প্রার্থনা করি? প্রার্থনা করি, যদি আমি দেখতে পেতাম। তোমার মুখ থেকে আমি যা যা দেখেছি তার সবই আামি দেখতে চাই ভ্যালেন্টাইন। - আমরা যদি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি তাহলে তিনি আমাদের জন্য যা ভালো তার সবই করেন। ভ্যালেন্টাইন উত্তর দিলেন।
এভাবে প্রার্থনা করতে করতে একদিন জুলিয়া ঠিকই তার দৃষ্টি ফিরে পেলেন। কিন্তু সময় ঘনিয়ে এসেছে ভ্যালেন্টাইনের। ক্রদ্ধ ক্লাডিয়াস সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দিন ধার্য করলেন। দিনটি ছিলো ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২৭০ অব্দ।
মৃত্যুর আগের দিন ভ্যালেন্টাইন জুলিয়াকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠির শেষে লেখা ছিলো, ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যু কার্যকর হয় ও তাকে বর্তমান রোমের প্রক্সিদেস গির্জার স্থলে সমাহিত করা হয়।
কথিত রয়েছে, ভ্যালেন্টাইনের কবরের কাছে জুলিয়া একটি গোলাপি ফুলে ভরা আমন্ড গাছ লাগান। সেখান থেকে আমন্ড গাছ স্থায়ী প্রেম ও বন্ধুত্বের প্রতীক। পরবর্তীতে ৪৯৬ অব্দে পোপ প্রথম জেলাসিউস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ভ্যালেন্টাইন ডে-তে প্রেমিক-প্রেমিকা ছাড়াও বিভিন্ন সম্পর্কের মধ্যে বিনিময় হয় প্রেম, স্নেহ ও ভক্তি।
নির্বাচনে পেশিশক্তি আর কালো টাকার খেলা চলবে না: জামায়াত আমীর
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ সংশ্লিষ্ট একটি পোস্ট দেয় তারা।
পোস্টে সংযুক্ত ফটোকার্ডে লেখা ছিল, ওরা আমাদের সামাজিক বন্ধন কেড়ে নিতে চায়। ভ্যালেন্টাইন আমাদের সংস্কৃতি নয়।
এর আগে, এদিন সকালে ছাত্রশিবিরের পেজ থেকে আরও একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। যেখানে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলা হয়, ‘সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ, আপনার ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে সময় ব্যয় করুন। সন্তানকে একা ছেড়ে দেবেন না। ভ্যালেন্টাইন আমাদের সংস্কৃতি নয়।
ভালোবাসা দিবসকে না বলুন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ করুন।’এছাড়া বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ছাত্রশিবির তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আরেকটি ফটোকার্ড শেয়ার করেছিল। এতে লেখা ছিল, ভ্যালেন্টাইন আমাদের সংস্কৃতি নয়। ভালোবাসা দিবসকে না বলুন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ করুন।
মূলত, ভ্যালেন্টাইন ডে’র গল্পটি শুরু হয় অত্যাচারী রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াস এবং খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে দিয়ে। তৃতীয় শতকে সম্রাট ক্লাডিয়াস সমগ্র রোমানবাসীকে ১২জন দেব-দেবীর আরাধনা করার নির্দেশ দেন। সেসময় খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা ছিলো কাঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি খ্রিস্টানদের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো।
এদিকে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন খ্রিস্টধর্মের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। মৃত্যুর ভয়ে তিনি খ্রিস্টধর্ম পালনে পিছপা হননি। কিন্তু যা হবার তাই হলো, সম্রাট ক্লাডিয়াস তাকে কারাগারে বন্দি করে রাখলেন।
ভ্যালেন্টাইনের জীবনের শেষ সপ্তাহগুলোতে ঘটলো এক জাদুকরী ঘটনা। তিনি যে কারাগারে বন্দি ছিলেন সেখানকার কারারক্ষী ভ্যালেন্টাইনের প্রজ্ঞা দেখে মুগ্ধ হন। কারারক্ষী ভ্যালেন্টাইনকে জানান, তার মেয়ে জুলিয়া জন্মগতভাবেই অন্ধ, ভ্যালেন্টাইন তাকে একটু পড়ালেখা করাতে পারবেন কিনা।
জুলিয়া চোখে দেখতে পেতেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন খুব বুদ্ধিমতী। ভ্যালেন্টাইন জুলিয়াকে রোমের ইতিহাস পড়ে শোনাতেন, পাটিগণিত শেখাতেন। মুখে মুখে প্রকৃতির বর্ণনা ফুটিয়ে তুলতেন ও ঈশ্বর সম্পর্কে বিস্তারিত বলতেন। জুলিয়া ভ্যালেন্টাইনের চোখে দেখতেন অদেখা পৃথিবী। তিনি ভ্যালেন্টাইনের জ্ঞানকে বিশ্বাস করতেন, ভ্যালেন্টাইনের শান্ত প্রতিমূর্তি ছিলো জুলিয়ার শক্তি।
একদিন জুলিয়া ভ্যালেন্টাইনকে জিজ্ঞেস করেন- - ভ্যালেন্টাইন, সতিই কি ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনা শোনেন? - হ্যাঁ, তিনি সবই শোনেন। - জানো, রোজ সকাল আর রাতে আমি কি প্রার্থনা করি? প্রার্থনা করি, যদি আমি দেখতে পেতাম। তোমার মুখ থেকে আমি যা যা দেখেছি তার সবই আামি দেখতে চাই ভ্যালেন্টাইন। - আমরা যদি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি তাহলে তিনি আমাদের জন্য যা ভালো তার সবই করেন। ভ্যালেন্টাইন উত্তর দিলেন।
এভাবে প্রার্থনা করতে করতে একদিন জুলিয়া ঠিকই তার দৃষ্টি ফিরে পেলেন। কিন্তু সময় ঘনিয়ে এসেছে ভ্যালেন্টাইনের। ক্রদ্ধ ক্লাডিয়াস সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দিন ধার্য করলেন। দিনটি ছিলো ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২৭০ অব্দ।
মৃত্যুর আগের দিন ভ্যালেন্টাইন জুলিয়াকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠির শেষে লেখা ছিলো, ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যু কার্যকর হয় ও তাকে বর্তমান রোমের প্রক্সিদেস গির্জার স্থলে সমাহিত করা হয়।
কথিত রয়েছে, ভ্যালেন্টাইনের কবরের কাছে জুলিয়া একটি গোলাপি ফুলে ভরা আমন্ড গাছ লাগান। সেখান থেকে আমন্ড গাছ স্থায়ী প্রেম ও বন্ধুত্বের প্রতীক। পরবর্তীতে ৪৯৬ অব্দে পোপ প্রথম জেলাসিউস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ভ্যালেন্টাইন ডে-তে প্রেমিক-প্রেমিকা ছাড়াও বিভিন্ন সম্পর্কের মধ্যে বিনিময় হয় প্রেম, স্নেহ ও ভক্তি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন হতে হবে। তবে যেন তেন মার্কা নির্বাচন আমরা চাই না। নির্বাচনের মতো নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনে পেশিশক্তি আর কালো টাকার খেলা চলবে না। এটা সহজে আসবে না। আমরা বুঝতে পারছি। এর জন্য বড় একটা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
শুক্রবার বিকালে সাঠিরপাড়া কালী কুমার ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী নরসিংদী জেলা শাখার উদ্যোগে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়েতে ইসলামী এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪ এর জুলাই-আগস্টে এই জাতিকে একাটা ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আরেকটি ধাক্কা এই জাতিকে দিতে হবে। অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য ভোটার তালিকা সংশোধন করতে হবে। ভুয়া ভোটার বাদ দিতে হবে। মৃত ভোটারদের চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। যেসব লোকেরা ভোটার হয়েছে, কিন্তু নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। সেসব ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে হবে। জুলাই আগস্টের আন্দোলন সফল করতে সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একাকার ছিল।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতন আন্দোলন করতে গিয়ে বিদেশে আমাদের ভাইয়েরা জেলে গিয়েছেন। তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। রেমিটেন্স বন্ধ করে স্বৈরচার সরকারকে লাল ফ্লাগ দেখিয়েছিল। তাদেরকে স্যালুট জানাই।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খুনিদের বিচার করতে হবে। প্রয়োজনে সংস্কার করতে হবে। তারপর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এই তিনটি জনগণের দাবি। যতটুকু সময় পান, কিছু কাজ তো আপনাদেরও করতে হবে। দৈনন্দিনের কিছু কাজ ও উন্নয়নের কিছু কাজ। আপনারা আবার যেন নতুন করে কোনো বেইনসাফি না করেন। ইনসাফের ভিত্তিতে করবেন। ২৪ এর গণহত্যায় অনেক মানুষ জীবন দিল। অনেক লাশ গুম করে ফেলেছে। ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ট্রাকে সারিবদ্ধ লাশ পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের কোথায় খুঁজে পাব। ৩-৪ আগস্ট দুই দিন ইন্টারনেট বন্ধ করে মানুষ মেরে লাশগুলো গুম করে ফেলা হয়েছিল। আজকে যেখানেই যাই সন্তানহারা, স্বামীহারা, পিতাহারা পরিবারের আহাজারি শুনতে পাই।
জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে দেশের সব কটি কার্যালয় কার্যত সিলগালা করে রাখা হয়েছিল। একমাত্র দল, যে দলের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দুঃখের বিষয়, ফ্যাসিবাদ আপাতত বিদায় নিয়েছে, কিন্তু আমরা নিবন্ধনটা এখনো ফিরে পাইনি। নিবন্ধনের জন্য এখনো আদালতে লড়াই করতে হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার বিষয়। অন্যায়ের কাছে ফ্যাসিবাদের কাছে মাথানত না করার কারণে কেড়ে নেওয়া নিবন্ধনটা ফ্যাসিবাদের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।
তিনি অবিলম্বে প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান সরকারের কাছে। এ ছাড়া দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা দেশে বিদেশে যেখানেই থাকুক জাল ফেলে ফিরিয়ে এনে সরকারি কোষাগারে জমা করার দাবি করেন জামায়াতের আমির।
গণহত্যাকারী আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও তার দোসরদের দ্রুত বিচার এবং বৈষম্যহীন-ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েম, মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নরসিংদী জেলা আমির মাওলানা মো. মোছলেহুদ্দীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আফম আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির আব্দুল জব্বার প্রমুখ।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন হতে হবে। তবে যেন তেন মার্কা নির্বাচন আমরা চাই না। নির্বাচনের মতো নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনে পেশিশক্তি আর কালো টাকার খেলা চলবে না। এটা সহজে আসবে না। আমরা বুঝতে পারছি। এর জন্য বড় একটা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
শুক্রবার বিকালে সাঠিরপাড়া কালী কুমার ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী নরসিংদী জেলা শাখার উদ্যোগে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়েতে ইসলামী এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪ এর জুলাই-আগস্টে এই জাতিকে একাটা ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আরেকটি ধাক্কা এই জাতিকে দিতে হবে। অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য ভোটার তালিকা সংশোধন করতে হবে। ভুয়া ভোটার বাদ দিতে হবে। মৃত ভোটারদের চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। যেসব লোকেরা ভোটার হয়েছে, কিন্তু নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। সেসব ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে হবে। জুলাই আগস্টের আন্দোলন সফল করতে সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একাকার ছিল।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতন আন্দোলন করতে গিয়ে বিদেশে আমাদের ভাইয়েরা জেলে গিয়েছেন। তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। রেমিটেন্স বন্ধ করে স্বৈরচার সরকারকে লাল ফ্লাগ দেখিয়েছিল। তাদেরকে স্যালুট জানাই।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খুনিদের বিচার করতে হবে। প্রয়োজনে সংস্কার করতে হবে। তারপর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এই তিনটি জনগণের দাবি। যতটুকু সময় পান, কিছু কাজ তো আপনাদেরও করতে হবে। দৈনন্দিনের কিছু কাজ ও উন্নয়নের কিছু কাজ। আপনারা আবার যেন নতুন করে কোনো বেইনসাফি না করেন। ইনসাফের ভিত্তিতে করবেন। ২৪ এর গণহত্যায় অনেক মানুষ জীবন দিল। অনেক লাশ গুম করে ফেলেছে। ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ট্রাকে সারিবদ্ধ লাশ পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের কোথায় খুঁজে পাব। ৩-৪ আগস্ট দুই দিন ইন্টারনেট বন্ধ করে মানুষ মেরে লাশগুলো গুম করে ফেলা হয়েছিল। আজকে যেখানেই যাই সন্তানহারা, স্বামীহারা, পিতাহারা পরিবারের আহাজারি শুনতে পাই।
জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে দেশের সব কটি কার্যালয় কার্যত সিলগালা করে রাখা হয়েছিল। একমাত্র দল, যে দলের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দুঃখের বিষয়, ফ্যাসিবাদ আপাতত বিদায় নিয়েছে, কিন্তু আমরা নিবন্ধনটা এখনো ফিরে পাইনি। নিবন্ধনের জন্য এখনো আদালতে লড়াই করতে হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার বিষয়। অন্যায়ের কাছে ফ্যাসিবাদের কাছে মাথানত না করার কারণে কেড়ে নেওয়া নিবন্ধনটা ফ্যাসিবাদের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।
তিনি অবিলম্বে প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান সরকারের কাছে। এ ছাড়া দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা দেশে বিদেশে যেখানেই থাকুক জাল ফেলে ফিরিয়ে এনে সরকারি কোষাগারে জমা করার দাবি করেন জামায়াতের আমির।
গণহত্যাকারী আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও তার দোসরদের দ্রুত বিচার এবং বৈষম্যহীন-ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েম, মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নরসিংদী জেলা আমির মাওলানা মো. মোছলেহুদ্দীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আফম আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির আব্দুল জব্বার প্রমুখ।
কক্সবাজারে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা খুন
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পারিবারিক ঝগড়ায় ভাতিজার হাতে চাচা হোছাইনগীর (৩৬) নিহত হয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা স্টেশনে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোছাইনগীরের স্ত্রীর সাথে আপন বড় ভাই হাছানগীরের স্ত্রীর ঝগড়া হয়। ঝগড়ার সূত্র ধরে আপন চাচা হোছাইনগীরকে ভাতিজা ফোরকান প্রকাশ কালু বদরখালী ফুলতলা স্টেশনে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয় জনসাধারণ এগিয়ে এলে ফোরকান প্রকাশ কালু পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন হোছাইনগীরকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখতে পেয়ে ডাক্তার চকরিয়া হাসপাতালে রেফার করেন।
হাসপাতালে যাওয়ার পথেই শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন হোছাইনগীর।
চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়া ঘটনা অবগত হয়েছেন জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আ.লীগ এখন বিজেপির বাংলাদেশি শাখা : ভারতীয় সাংবাদিক-
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির বাংলাদেশি শাখা বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা ও লন্ডনভিত্তিক সাংবাদিক, গবেষক, অ্যাক্টিভিস্ট অর্ক ভাদুড়ি।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফেসবুক নিজের আইডিতে এক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তার স্ট্যাটাসটি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। অর্কর পোস্টটি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমও তার ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমেরিকায় গিয়েছেন। তাকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শাখা ‘ওয়েলকাম নরেন্দ্র মোদি’ লেখা ব্যানার নিয়ে জমায়েত করেছে। আওয়ামী ছাত্রলীগের অফিসিয়াল পেজ এই ভিডিও শেয়ার করেছে। ছাত্রলীগের পোস্টটি কমেন্ট সেকশনে শেয়ার করছি। ভিডিওর ডানদিকে ব্যানারটি দেখা যাবে।’
‘বিজেপি ও আওয়ামী লীগ এখন আর আলাদা দুটি দল নয়। আওয়ামী লীগ বর্তমানে বিজেপির বাংলাদেশি শাখা। সেই কারণেই মোদিকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার হাতে আমেরিকায় জমায়েত করেন আওয়ামী লীগের নেতারা।’

‘হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা ভারতে আছেন। আওয়ামী লীগের আইটি সেলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ভারতে এসে আরএসএস-এর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন। করতেই পারেন। এগুলি তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।’
‘প্রশ্ন হলো, বিজেপির সিস্টার কনসার্ন হিসেবে ক্রিয়াশীল আওয়ামী লীগ কি আদৌ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কামব্যাক করতে পারবে? সম্ভবত নয়।
‘ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আছে, ক্ষোভ আরও বাড়বে। কিন্তু তার সুফল আওয়ামী লীগ ঘরে তুলবে না, তুলবে অন্য রাজনৈতিক শক্তি।’
‘জুলাই-আগস্টের সহিংসতা নিয়ে শেখ হাসিনাকে দায়ী করে রাষ্ট্রসংঘের (জাতিসংঘ) রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের বিপদ আরও বেড়েছে। কিংবদন্তি আওয়ামী লীগ নেতা, মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের পুত্র সোহেল তাজ এ বিষয়ে যে পোস্ট করেছেন, কমেন্ট সেকশনে সেটি শেয়ার করলাম। এই দুরবস্থায়, খোলাখুলি নরেন্দ্র মোদির পক্ষে ব্যানার নিয়ে মিছিল করে আদৌ বিচক্ষণতার পরিচয় দিচ্ছে আওয়ামী লীগ?’
বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।সেই ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা তথা মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ কিনা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়েছিলেন! তাও আবার পাকিস্তানে !
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন জাকারবার্গ নিজেই। জানিয়েছেন, এক সময় তিনি পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়েছিলেন।
এর কারণ হিসেবে মেটা সিইও বলেন, কারণটা ছিল ফেসবুকে পোস্ট হওয়া একটি কনটেন্ট। যা পাকিস্তানের কঠোর ধর্ম অবমাননা (ব্লাসফেমি) আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করা হয়েছিল।
জাকারবার্গ জানান, একজন ব্যবহারকারী ফেসবুকে নবী মুহাম্মদের (স.) একটি চিত্রাঙ্কন পোস্ট করেছিলেন, যা পাকিস্তান সরকারকে ক্ষুব্ধ করে। আর এ ঘটনার জেরে পাকিস্তান সরকার সরাসরি জাকারবার্গের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং তাকে ব্যক্তিগতভাবে দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
যদিও জাকারবার্গ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তেমন একটা চিন্তিত ছিলেন না। কারণ তিনি কখনোই পাকিস্তান ভ্রমণের পরিকল্পনা করেননি। তবে এই ঘটনা গ্লোবাল টেক কোম্পানিগুলোর জন্য বাক-স্বাধীনতা ও স্থানীয় আইন মেনে চলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে।
জাকারবার্গ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন কিছু মূল্যবোধ আছে, যা আমাদের বাক-স্বাধীনতার নীতির বিপরীতে যায়। তারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আরও বেশি কনটেন্ট নিষিদ্ধ করতে বাধ্য করতে চায়।
বিশেষ করে পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননা আইন অত্যন্ত কঠোর। যেখানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থা অতীতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা পরিচালনা করেছে। তাই জাকারবার্গের এই মন্তব্য গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য স্থানীয় সংস্কৃতি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর পাশাপাশি মুক্ত মতপ্রকাশের নীতির ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে।
পাকিস্তানে মেটার আইনি চ্যালেঞ্জ নতুন কিছু নয়
জাকারবার্গ জানান, মেটার পাকিস্তানে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথমবার নয়। অতীতেও দেশটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে থাকা বিভিন্ন কনটেন্ট নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। যা দেশটির সরকার অবমাননাকর, আপত্তিকর বা বেআইনি বলে মনে করে।
এটি গ্লোবাল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের আরও একটি উদাহরণ। যেখানে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে একদিকে বাক-স্বাধীনতা রক্ষা করতে হয়, অন্যদিকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও আইন মেনে চলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।
সরকারি চাপ ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সুরক্ষা প্রসঙ্গ
এ বিষয়ে জাকারবার্গ বলেন, বিদেশি সরকারগুলোর চাপ মোকাবিলায় আমেরিকান টেক কোম্পানিগুলোর জন্য মার্কিন সরকারের আরও শক্তিশালী সমর্থন দরকার।
তিনি উল্লেখ করেন, যখন কোনো দেশ বলে যে তারা তোমাকে জেলে পাঠাবে, তখন সেটা এমন এক স্তরের চাপ সৃষ্টি করে, যার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।সূত্র: এনডিটিভি
কী ঘটেছিল ?
ফেসবুকে একটি প্রতিযোগিতা চালু হয়েছিল যেখানে "Everybody Draw Mohammed Day" নামে একটি ইভেন্টের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মদ (স.)-এর ছবি আঁকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল, বিশেষ করে পাকিস্তানে।
পাকিস্তানের সরকার তখন ফেসবুক নিষিদ্ধ করেছিল এবং সাইটটির প্রতিষ্ঠাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেয়। পাকিস্তানের একটি আদালতে অভিযোগ গঠিত হয়, যেখানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে জাকারবার্গসহ ফেসবুকের কিছু কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের দাবি ওঠে।
এরপর কী হলো?
ফেসবুক দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং পাকিস্তানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বিতর্কিত ইভেন্টটি ব্লক করে। এরপর পাকিস্তান ফেসবুকের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।
এই ঘটনা ফেসবুকের কনটেন্ট মডারেশন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নীতি অনুসরণ করতে হয়।


