চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের লাঠিপেটা
সচিবালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনকারীরা প্রেস ক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের সামনে অবস্থানের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের প্রেস ক্লাবে ফিরিয়ে দেয়৷ এ ঘটনার পর সচিবালয়ের দক্ষিণ গেটে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পরিদর্শক কায়সার বলেন, বিগত সরকারের সময় চাকরি হারানো পুলিশের বেশকিছু কনস্টেবল তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সচিবালয়ের গেটের সামনে এসেছিল। তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য ইমরানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে বিগত সরকারের আমলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা এই সরকারের কাছে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছি। আমাদের কেন ধরে নিয়ে যাচ্ছে, আমরা জানি না।
শাহবাগ থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। আটকের বিষয় পরে জানানো হবে।
জাতিসংঘে ৯৫ জনের তালিকা দিয়েছে পুলিশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের (ওএইচসিএইচআর) কাছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ ৯৫ জনের একটি তালিকা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
বুধবার জাতিসংঘের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের ৯৫ জন সদস্যের নাম এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল তার বিস্তারিত বিবরণ ওএইচসিএইচআর-কে সরবরাহ করা হয়েছে।
পুলিশের মতে এসব ব্যক্তিরাই বিক্ষোভের সময় সহিংস হামলায় ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। যাদের অস্ত্র সরবরাহ যাদের করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ১০ জন তখনকার সংসদ সদস্য, ১৪ জন আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ে নেতা, ১৬ জন যুবলীগ ও ১৬ জন ছাত্রলীগ নেতা এবং সাতজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
রিপোর্টে বলা হয়, পুলিশ ও অন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর দ্বারা শিশুরা টার্গেট কিলিং এর শিকার হয়েছে। এছাড়া অমানবিক পরিবেশে আটক, নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর আচরণের শিকার হয়েছে।
নারী ও মেয়ে শিশুরাও নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছে বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষত শুরুর দিকে বিক্ষোভের সম্মুখসারিতে থাকা নারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকরা মারাত্মকভাবে আক্রমণ করেছে। নারীরা যৌন ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ছিল লিঙ্গ-ভিত্তিক শারীরিক সহিংসতা ও ধর্ষণের হুমকি। কয়েকটি ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ওএইচসিএইচআর নিশ্চিত হয়েছে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি সম্প্রসারিত দল পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে বা ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছিল।