মো: আকিবুজ্জামিন-
নানা অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ এনে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেলার আক্তার হোসেন শেখকে তার কার্যালয়ের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন কারারক্ষীরা। বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
খবর পেয়ে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেল সুপার ও জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. শাহিন মিয়া ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান মারুফ কারারক্ষীদের অভিযোগ শোনার পর জেলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সবশেষ বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটে জেলার বিশেষ নিরাপত্তা প্রহরায় কারাগার ত্যাগ করেন।
কারারক্ষীরা তাদের হয়রানিমূলক বদলির জন্য আক্তার হোসেনকে দায়ী করে বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এ ঘটনার খবর জানাজানি হলে কারাগারের সামনে ভিড় জমে যায়।
কারারক্ষী নাছির উদ্দীন ও আবদুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, জেলার আক্তার হোসেন সাধারণ কারারক্ষী এবং বন্দি আসামিদেরকে নানাভাবে মানসিক অত্যাচার করতেন।
যেকোনো কাজের জন্য কারারক্ষীদের টাকা দিতে হতো তাকে। এসব বিষয় নিয়ে একবার আসামিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তখন আমরা তাকে নিরাপত্তা দিই। ইতিমধ্যে তাকে ওএসডি করে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ তার খাগড়াছড়ি ত্যাগ করার কথা। কিন্তু আজ হঠাৎ আমাদের কয়েকজনকে রাজশাহী বদলি করে দেন তিনি। মূলত তিনি নিজে ওএসডি হওয়ায় আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ কাজ করেছেন।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে ভারপ্রাপ্ত জেল সুপার ও জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. শাহিন মিয়া ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান মারুফ কারাগারের সামনে ছুটে আসেন। তিনি আন্দোলনরত কারারক্ষীকে ডিউটি থেকে সরিয়ে দিয়ে অস্ত্র জমা নিয়ে নেন।
বিকাল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ আন্দোলনরত কারারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করেন।
আন্দোলনরত কারারক্ষীদের দাবিদাওয়া সম্পর্কে জানতে বৈঠক হয়। এ সময় জেলা সদরের সাম্প্রতিক সময়ে কারামুক্ত এবং জেলারের হাতে নির্যাতিত অনেকে তাদের অভিযোগ জানাতে ভিড় জমান। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাদের কোনও অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানানোর পরামর্শ দেন।
খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেল সুপার ও জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার কমিশনার মো. শাহিন মিয়া বলেন, কারারক্ষীদের অভিযোগ শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছি।
নবাগত ডেপুটি জেলার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে জেলার আক্তার হোসেন বদলিজনিত কারণে খাগড়াছড়ি কারাগারে দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজ করছিলেন। হঠাৎ দুপুরের দিকে কারা ফটকে কয়েকজন কারারক্ষী আন্দোলন শুরু করেন। পরে বিষয়টি সমাধান করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
বসতে চাওয়ায় ‘অসুস্থ’ সেনাসদস্যকে মারধর, রেলওয়ের গার্ডসহ তিন জন কারাগারে-
ট্রেনে ও প্ল্যাটফর্মে ইসমাইল হোসেন নামের এক সেনাসদস্যকে মারপিটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রেলওয়ের নিরাপত্তারক্ষীসহ (গার্ড) তিন জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে তাদের আটক করে সেনাবাহিনীর একটি দল। পরে তাদের রাজশাহী রেলওয়ে থানায় রাখা হয়। এদিন, বিকালে ভুক্তভোগী সেনাসদস্য মামলা করলে ওই তিন জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
গ্রেফতার তিন জন হলেন- ঢাকা-রাজশাহী রুটের সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের নিরাপত্তারক্ষী আলী আজম, অ্যাটেনডেন্ট মনছেহার আলী ও আল-আমিন।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী সেনাসদস্য গ্রেফতার তিন জনসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জন রেলকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ মামলায় তিন জনকে বিকালেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসমাইল হোসেন নামের ওই সেনাসদস্য বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা থেকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী আসছিলেন। আসন না পাওয়ায় তিনি আসছিলেন স্ট্যান্ডিং টিকিটে। শারীরিকভাবে অসুস্থ ওই সেনাসদস্য রেলওয়ের কর্মীদের অনুরোধ করেছিলেন তাকে বসানোর ব্যবস্থা করতে। কিন্তু রেলকর্মীরা তাকে বসানোর ব্যবস্থা করেননি।
কিন্তু ওই সেনাসদস্য লক্ষ করেন, বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের বসানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার কাছে স্ট্যান্ডিং টিকিট থাকলেও তাকে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়নি। ট্রেনে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় রেলওয়ের কর্মীরা তাকে ধাক্কাধাক্কি করেন। ট্রেনটি রাজশাহী আসার পর প্ল্যাটফর্মে নেমে আবার ওই সেনাসদস্যকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এরপর রেলওয়ের ওই কর্মীরা চলে যান। পরে খবর পেয়ে রাতেই রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে সেনাবাহিনীর একটি দল।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার ময়েন উদ্দিন জানান, সকালে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ডিউটির জন্য রেলওয়ের ওই নিরাপত্তারক্ষী এবং অ্যাটেনডেন্টরা স্টেশনে আসেন। তখন সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে রেলওয়ে থানায় নিয়ে যান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ট্রেনের বগি ও পাওয়ার কারে টিকিটবিহীন যাত্রী উঠিয়ে বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন রেলওয়ের একশ্রেণির কর্মচারীরা। রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল আন্তনগর ট্রেনের পাওয়ার কারেই বিনা টিকিটের যাত্রীদের বসানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ আছে।
সম্প্রতি বিনা টিকিটের ট্রেনের যাত্রীর কাছ থেকে এক পাওয়ার কার চালকের টাকা নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে। এর জের ধরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে একজন সাংবাদিককে মারধর করা হয়। এবার বিনা টিকিটের যাত্রীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হলেন সেনাসদস্য।