জলকামান-লাঠিচার্জে শাহবাগ থেকে আন্দোলনকারীদের সরাল পুলিশ

জলকামান-লাঠিচার্জে উত্তপ্ত শাহবাগ, আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ

হাইকোর্টের রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বাতিল হওয়া তৃতীয় ধাপের প্রার্থীরা শাহবাগ মোড়ে আন্দোলন করছেন। তাদের সেখান থেকে তুলে দিতে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে অবরোধকারীরা রাস্তা দখল করলে তাদের সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার শুরু করে। পরে তারা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে ব্যস্ততম এই মোড় দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়।

তবে আন্দোনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, শাহবাগ মোড় থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আজ টানা চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান নেন বাতিল হওয়া সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা। দুপুরে কিছু সময়ের জন্য তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন।

এ নিয়ে অষ্টম দিনে গড়িয়েছে তাদের আন্দোলন। এর আগে চার দিন একই দাবিতে তারা প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করেছেন।

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করে দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ে আপিল বিভাগের কোটাসংক্রান্ত সর্বশেষ রায় অনুসরণ করে নতুন ফলাফল প্রকাশ করতে নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন এসব চাকরিপ্রার্থী।


লুটের টাকার ভাগাভাগিতে গুলি, আতঙ্কে এলাকা


কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গরু লুটের টাকার ভাগ নিয়ে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদীপুর বাজারের পাশে পাঁচশ বিঘা মাঠে এ গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপনগর ও চরসাদীপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী শরিফ কাইগি, রিন্টু, নাজমুল, শাহীন ও জামিল সংঘবদ্ধ হয়ে বুধবার সকালে ফিলিপনগর এলাকার কালু কবিরাজের চরের মাঠ থেকে বাথানের ৩৪টি গরু লুট করে। লুট করা গরু ফেরত নিতে সন্ত্রাসীরা কালু কবিরাজের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে।

একই দিন রাতে লুট হওয়া গরু কালু কবিরাজ ফেরত পেলে টাকার ভাগ নিয়ে সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা চরসাদীপুর পাঁচশ বিঘা মাঠে একত্রিত হয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে চরসাদীপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী নাজমুল, শাহীন ও জামিল  প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী শরিফ কাইগি ও রিন্টুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে শরিফ কাইগি ও রিন্টুও তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

ঘণ্টাব্যাপী চলা দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গুলিবিনিময়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা একে অপরকে লক্ষ্য করে অন্তত ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তবে গুলিতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে।

সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময়ের ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চরসাদীপুর এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনার একদিন আগে রাজু নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার জের ধরে সাইদ মণ্ডলের মহিষের বাথান বাড়ি থেকে ৪৬টি মহিষ লুট করা হয়েছে। লোকজন বৈরাগীরচর মণ্ডলপাড়া পদ্মার চরের বাথান বাড়ি থেকে মহিষগুলো লুট করে নেয় বলে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। লুট মহিষের মূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তোপের মুখে কার্যালয় ছাড়লেন ইউএনও

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা অফিসার ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন পার্বতীপুর শাখার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটির নেতারা।

বুধবার দুপুরে স্থানীয় শহিদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন শেষে উপজেলা চত্বরে পৌঁছে তার কক্ষে গিয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ নানা স্লোগান দিয়ে ইউএনওর অপসারণ দাবি করেন তারা। তাদের তোপের মুখে একপর্যায়ে নিজ কার্যালয় ছেড়ে চলে যান ইউএনও।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা খাতুনের তিনবার বদলির আদেশ হয়েছে। এরপরও তিনি কোনো এক অদৃশ্য শক্তির বলে পার্বতীপুরে রয়ে গেছেন।

বিক্ষোভকারীরা দুই ঘণ্টার মধ্যে তাকে পার্বতীপুর ছেড়ে চলে যেতে বললে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা খাতুন বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি। রিলিজ অর্ডার ছাড়া আমি কি যেতে পারি। আমার বদলি চান কী কারণে আমি জানি না।

এ সময় তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তি দাবি করলে- এডিবি, জনস্বাস্থ্যসহ নানা খাতে দুর্নীতির অভিযোগ বর্ণনা করেন নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম। একপর্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কক্ষ ত্যাগ করলে বিক্ষোভকারীরা চলে যান। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল উপজেলা চত্বর টহল দেয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা খাতুন বলেন, তারা যে আচরণ করেছে সেই পরিস্থিতি সবাইকে বোঝার দাবি করছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি আচ্ছা বুঝতে পেরেছি বলে ফোন কেটে দেন।

শ্বশুরের বিশেষ অঙ্গ কাটলেন পুত্রবধূ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পারিবারিক কলহের জেরে শাহ জামাল প্রামাণিকের (৬৫) বিশেষ অঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূ ফাতেমা বেগমের (৩০) বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত শাহ জামাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে উপজেলার ৩ নং সিংড়া ইউনিয়নের বিরাহীমপুর গুচ্ছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি নাজমুল হক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফাতেমাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে করেছে পুলিশ। 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা জানান, ১৫ বছর আগে মনির প্রামাণিকের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তখন থেকে বারোপাইকার গড় এলাকায় স্বামীর বাড়িতে ছিলেন তারা। দুই মাস আগে ঋণগ্রস্ত হয়ে বাড়ি বিক্রি করে দেন মনির। পরে তাদের আশ্রয় দেন মনিরের বাবা শাহ জামাল। স্ত্রী সন্তান রেখে অন্য জেলায় কাজ করতেন মনির। 

এদিকে থাকার জায়গা নিয়ে ফাতেমার সঙ্গে মনোমালিন্য হয় শ্বশুর-শাশুড়ির।  ফাতেমাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা বলেন শ্বশুর।  সাত দিন আগে কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন মনির। বিষয়টি আরও চরম আকার ধারণ করে। গতকাল শনিবার রাতে ফাতেমাকে গালিগালাজ করেন শ্বশুর। পরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শ্বশুরকে টেনে শোবার ঘরে নিয়ে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করে ফাতেমা। সে সময় আগে থেকে রাখা ব্লেড দিয়ে শ্বশুর শাহজামালের বিশেষ অঙ্গ কেটে দেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আহসান হাবীব বলেন, শনিবার রাত পৌনে ১০ টায় আহত শাহজামালকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তার বিশেষ অঙ্গের গোড়ার প্রায় চার সেন্টিমিটার অংশ কেটে গেছে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। আটটি সেলাই দেয়া হয়েছে। তিনি এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।  

ঘোড়াঘাট থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, শাহজামাল প্রামাণিক নামের এক ব্যক্তির বিশেষ অঙ্গ কেটে দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আহত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহজামালের পুত্রবধূকে থানায় আনা হয়েছে।  তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

নবীনতর পূর্বতন