ছাত্রদের থানায় হা/ম/লা পুলিশকে মা/র*ধর

তিন ছাত্রকে ছাড়িয়ে নিতে উত্তরায় থানায় হামলা

চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর উত্তরা পশ্চিম থানায় হামলা


রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের হাতে তিন ছাত্র আটকের প্রতিবাদে উত্তরা পূর্ব থানা ঘেরাওয়ের পর উত্তরা পশ্চিম থানায় হামলা ও পুলিশকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

উত্তরা পশ্চিম থানায় বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের হামলা ভিডিও


আকিবুজ্জামিন-

ঘটনা,
অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর রাজধানীর উত্তরার বাসায় হামলার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী ফাহমিদা হক শুক্রবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন।


চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় হামলা করেছেন একদল লোক।


মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ব্যক্তিরা থানায় হামলার পাশাপাশি একজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করেছেন বলে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।


তবে পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চাঁদাবাজির অভিযোগে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র বলে নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন।


ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের খবরে কিছু লোক থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে উত্তরার গাউসুল আজম অ্যাভিনিউ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।


তাঁদের বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। আর অভিযানটি চালানো হয় উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানা-পুলিশের সমন্বয়ে। 


তাঁদের গ্রেপ্তার করার পর উত্তরা পূর্ব থানায় নেওয়া হয়। পরে কিছু লোক উত্তরা পূর্ব থানায় গিয়ে হট্টগোল করেন। পাশাপাশি উত্তরা পশ্চিম থানায় হামলা করা হয়।


যাঁরা থানায় গিয়ে হামলা ও হট্টগোল করেন, তাঁদের শান্ত করতে পুলিশের উত্তরা অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।


মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই থানায় এ হামলা করে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। এ সময় উত্তরা পশ্চিম থানায় কর্তব্যরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মহাদেবের ওপর হামলা করা হয়।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের গাউসুল আজম এভিনিউ সড়কে উত্তরা পশ্চিম থানা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি মিটিংয়ের আয়োজন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা। মিটিং থেকে আকাশ, রবিন ও বাপ্পি নামের তিন ছাত্রকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ


এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সহপাঠী আকাশ, রবিন ও বাপ্পিকে পুলিশ আটক করে উত্তরা পূর্ব থানায় নিয়ে যায়। পূর্ব থানায় আমরা গিয়ে জানতে পারি, তিন ছাত্রকে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ আটক করে উত্তরা পূর্ব থানা-পুলিশের হেফাজতে রেখেছে। এতে উত্তেজিত ছাত্ররা উত্তরা পশ্চিম থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। সেই সঙ্গে থানার গেটে হামলা চালিয়েছে।


অপরদিকে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ও পুলিশের গোয়েন্দার একাধিক সূত্র থানা ও পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, ওই ছাত্রদের আটকের পরে তাকে ছাড়িয়ে নিতে এই হামলা চালানো হয়। 


থানায় হামলার খবর শুনে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আহম্মেদ আলী, উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ছুটে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তরা পূর্ব থানার কম্পিউটার ল্যাব রুমে আলোচনায় বসে পুলিশ। সেই সঙ্গে পুলিশের আশ্বাসে শান্ত হন শিক্ষার্থীরা।

নবীনতর পূর্বতন