পাকিস্তানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ
চীনের তৈরি ৪০টি উন্নত স্টিলথ যুদ্ধবিমান কিনতে পাকিস্তান বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে সম্প্রতি খবর পাওয়া যায়। এতে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পাকিস্তান ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বলে মত দেন অনেক বিশ্লেষক। তবে এর মধ্যেই, ফ্রান্সের কাছ থেকে মোদি সরকার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ১ লাখ কোটি রুপির (১০.৬ বিলিয়ন ইউরো) চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হতে চলেছে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে। এর ফলে দেশ দুটির মধ্যকার বন্ধুত্ব এবং অংশিদারিত্ব আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ১ লাখ কোটি রুপির চুক্তির মধ্যে ৬৩ হাজার কোটির চুক্তি করা হয়েছে ২৬টি রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমানের জন্য।
এগুলোর মধ্যে ২২টি হলো সিঙ্গল সিটার যুদ্ধবিমান, বাকি ৪টি ডাবল সিটার। এছাড়া ফ্রান্সের সাথে আরও তিনটি স্কর্পোন সাবমেরিন তৈরির চুক্তি করতে যাচ্ছে ভারত। ভারতের মাজগাওঁ ডকে তিনটি সাবেরিন তৈরি করা হবে ফ্রান্সের সাহায্য নিয়ে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ফ্রান্স সফরে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার মধ্যেই টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ক্যাবিনেট কমিটি ফর সিকিউরিটি চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দিলেই রাফাল এবং সাবমেরিনের চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। মোদি যুক্তরাষ্ট্র সফর সেরে ভারতে ফিরলেই এই লাখ কোটি টাকার চুক্তি সম্পন্ন করা হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রথম বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্তের জন্য ২৬টি রাফাল মেরিন বিমান কিনতে ফ্রান্সের সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্স থেকে একটি প্রতিনিধি দল ভারতে এসেছিল। সেই সময়ই ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা হয়।
জানা যায়, ভারতে তৈরি অস্ত্র যাতে এই রাফাল মেরিনে যোগ করা হয়, তার আবেদন জানানো হয়েছে ফ্রান্সকে। এছাড়া আগের যে ৩৬টি রাফাল ভারত কিনেছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এই দফার রাফালের দাম নির্ধারণে দর কষাকষি চলছিল।
এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল এম যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। ফ্রান্স ওই বছরের ডিসেম্বরে ভারতীয় টেন্ডারে সাড়া দিয়েছিল। এই মুহূর্তে ভারতীয় বিমান বাহিনীর কাছে রয়েছে ৩৬টি অত্যাধুনিক রাফাল।
এদিকে মোদি আমলের প্রথম পাঁচ বছরে রাফাল নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, ভারত সরকার অনেক বেশি টাকা দিচ্ছে এই ফাইটার জেটের জন্য। তারা অনেক কম টাকায় এই চুক্তি করে ফেলেছিল বলে দাবি দলটির। অন্যদিকে বিজেপির পালটা দাবি, কংগ্রেস কখনও এই চুক্তি সংক্রান্ত পাকা কথা বলেনি।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর চাপে থাকা ভারত। বিশেষ করে, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনার মধ্যে ভারতের এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ধারণা, সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকতেই নতুন করে যুদ্ধবিমান কেনার মতো উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত সরকার।
মুরগি পশু নাকি পাখি, উত্তর খুঁজতে মামলা !
মুরগি আগে না ডিম আগে? এই বিতর্ক পুরনো। তবে আরও একটি প্রশ্ন নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবারও বিতর্কের কেন্দ্রে সেই মুরগি। প্রশ্ন, মুরগি আসলে পশু নাকি পাখি? উত্তর খুঁজতে মামলাও দায়ের হলো আদালতে। কী জানা গেল শেষ পর্যন্ত ?
মুরগি আসলে পশু। তাই মুরগি হত্যা আইনত অপরাধ। এই মর্মে আদালতে মামলা দায়ের হয়। কিন্তু বিজ্ঞান বইয়ের হিসেবে মুরগি আসলে পাখি। স্বাভাবিকভাবেই জমে ওঠে বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত বিচারপতির হস্তক্ষেপে ঘটনার নিষ্পত্তি। কিন্তু এত কিছু ছেড়ে হঠাৎ মুরগি নিয়ে আদালতে মামলা হলো কেন?
বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে চলেছে এমন অনেক ঘটনা, যা এতদিন কল্পনার বাইরে ছিল সবার। এমন ঘটনার সহজ পরিণতি বলতে, খবরের শিরোনাম দখল। সেই নিয়ে খানিক চর্চা। বেশি নয়, মাত্র কিছুদিনের। কারণ ততদিনে আবারও চলে আসবে নতুন কিছু। কিন্তু এমন ঘটনার সংখ্যাও নেহাত কম নয়, যা নিয়ে চর্চা চলে দীর্ঘদিন। মুরগি আসলে পাখি না পশু, সেই বিষয়টা খানিকটা তেমন।
ঘটনাটি ভারতের গুজরাটের। সেখানকার হাইকোর্টে এই মর্মে মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ ছিল, জীবন্ত পশু কেন কসাইখানায় রাখা হবে? এক্ষেত্রে পশু বলতে বোঝানো হয়েছিল মুরগিকেই। কারণ, আইন বলে কোনো জীবন্ত পশু কসাইখানায় রাখা যায় না। তাহলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মুরগির দোকানে কেন জীবন্ত অবস্থায় মুরগি রাখা হয়, তা নিয়ে সরব হন মামলাকারী।
এদিকে, পাল্টা যুক্তি ছিল মুরগি আসলে পাখি। সুতরাং জীবন্ত অবস্থায় আটকে রাখলে আইনত কোনো অপরাধ নেই, এমন দাবিও ওঠে। বেশ কয়েকমাস প্রশ্ন-উত্তর চলে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সরকার পক্ষের আইনজীবী জানিয়ে দেন, মুরগিকে পশুর আওতায় রাখা হবে এবং যাবতীয় আইন সেইমতো কাজ করবে।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই ঘটনার পরেও কেন মাংসের দোকানে জীবন্ত মুরগি রাখা হয়? কারণ একটাই, এই সংক্রান্ত কোনো আইনি নোটিশ বা নিয়ম জারি করা হয়নি। তবে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যাতেও বিষয়টা ভুল বলা যাচ্ছে না। আসলে, ভাষার কারণে এমন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।
কোন প্রাণী কোন প্রজাতির অংশ হবে তা স্থির হয় অ্যানিমাল কিংডমের ভিত্তিতে। সেই হিসেবে মুরগি অ্যানিমিলিয়া গোত্রের। অর্থাৎ তা আসলে অ্যানিম্যাল। বাংলায় যাকে বলে পশু। কিন্তু মুরগির ডানা রয়েছে, পালক রয়েছে, ডিমও পাড়ে, সেই হিসেবে পাখিও। সুতরাং বিতর্ক সহজে মেটার নয়। তবে আদালতে কিছুটা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে এই বিষয়ের।