রাজধানীতে ড্রাইভার হত্যা: ৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার
ছিনতাইয়ের সময়ে ধস্তাধস্তিতে খুন করা হয় ড্রাইভার সাজু মিয়াকে। তার কাছে থাকা ১৮ হাজার টাকার মোবাইল ফোন বিক্রি করে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। সে টাকায় কিনে হেরোইন। ছিনতাইকারীদের মধ্যে একজন আবার বিদেশে পড়ালেখা করার জন্য আইইএলটিএসও করেছে। চক্রটির ৩ সদস্যকে ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এদের ২ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের ডাটাবেজই ২৪টি মামলা আছে।
গত ২১ জানুয়ারি রাত ৩টায় রাজধানীর পল্টনের পানির ট্যাংক এলাকায় রিকশা থেকে নেমে হেঁটে গাড়ির মালিকের বাসায় যাচ্ছিলেন ড্রাইভার সাজু মিয়া। তাকে একা পেয়ে হামলা করে পল্টনের পেশাদার ছিনতাইকারী রোকন ও তার সহযোগীরা।
চক্রের সদস্য সজীবের মাথায় থাকা সাদাকালো স্ট্রাইপের শীতের টুপি দেখে তাকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়। রোকনের গায়ে ছিল সাদা জ্যাকেট। সাজুকে গলিতে নিয়ে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের পর ছুরিকাঘাত করে তারা, মৃত্যু হয় সেখানেই।
রোকন, সজীব ও লিসানের এই চক্রের প্রধান কাজ হেরোইনের কারবার। এরই মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকার ডিবি প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘উপর্যুপরি আঘাত করে তারা সাজু মিয়াকে হত্যা করে। তার কাছে থাকা মোবাইলটি তারা ছিনিয়ে নেয়। পরে এটি মতিঝিলের একজন অজ্ঞাত ফুটপাত ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে।’
চক্রের সদস্য শেখ আসিফুজ্জামান লিসান ট্যাক্স অফিসের কর্মচারীর ছেলে। ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করে দিয়েছে আইইএলটিএস পরীক্ষা। প্রস্তুতি নিচ্ছিল উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার। তবে নেশার টাকার জন্য ছিনতাই করতো রাতে।
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘সে নেশায় আসক্ত ছিল। সাজু মোল্লা তার মোবাইল ফেরত নেওয়ার জন্য তাদের পেছনে ধাওয়া করে এক পর্যায়ে রোকন তার কাছে থাকা সুইস গিয়ার দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে তাকে হত্যা করে।’
এই চক্রের সবার বিরুদ্ধে আগেও হত্যা, ছিনতাই, দস্যুতার মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সজীবের নামে ১৩টি, রোকনের নামে আছে ১১টি। আগেও কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছিল তারা।