TOP ALL NEWS TODAY
আজকের সেরা সংবাদ কালেকশন
রবিবার ৩রা ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১৭ শাবান ১৪৪৬ হিজরি
আজ সারাদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া EXCLUSIVE সংবাদগুলো একসাথে পরপর সাজানো হয়েছে। প্রধান শিরোনাম গুলি
** নৌকা ছিদ্র করা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫ ** বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা, কালাইয়ে ১৪৪ ধারা জারি ** পুড়িয়ে দেওয়া হলো আবু সাঈদের ফেস্টুন, জামায়াতের অফিসে হামলা-ভাঙচুর **
পাবনায় জামায়াতের অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
পাবনার হেমায়েতপুরে জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্থানীয়দের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের কুমারগাড়ী এলাকার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হেমায়েতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলীসহ ১০ জনের নামে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
পাবনায় জামায়াতের কার্যালয় ভাঙচুর। ছবি : কালবেলাঅভিযুক্ত ইয়াকুব আলী বলেন, এ ঘটনায় আমি মোটেও অবগত নই। যখন এ ঘটনা ঘটে তখন থানার ওসির ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দিই। এর বেশি কিছু নয়।
পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, জমিজমা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি ঝামেলা চলে আসছিল। শনিবার রাতে দোকান ও অফিস ভাঙচুর করেছে। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার প্রতিবেদন করা হয়েছে। ওখানে গুলির কোনো তথ্য আমরা পাইনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন পিস্তল, বন্দুক, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুমারগাড়ি এলাকায় জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে। এ সময় একটি মুদির দোকান ভাঙচুর করে লুটপাট করা হয়। অটোরিকশার গ্যারেজও ভাঙচুর করে। পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেল আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ করিমসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় লোকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
স্থানীয় জামায়াত কর্মী আব্দুল্লাহ করিম অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াকুব আলী ও আবির হোসেনসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা দখলদারিত্ব, আধিপত্য বিস্তার, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। এই নেতাদের নির্দেশে আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের শক্তি জানান দিতে আমাদের অফিসে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করেছে। এসব সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
পাবনার হেমায়েতপুরে জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্থানীয়দের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের কুমারগাড়ী এলাকার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হেমায়েতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলীসহ ১০ জনের নামে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ইয়াকুব আলী বলেন, এ ঘটনায় আমি মোটেও অবগত নই। যখন এ ঘটনা ঘটে তখন থানার ওসির ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দিই। এর বেশি কিছু নয়।
পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, জমিজমা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি ঝামেলা চলে আসছিল। শনিবার রাতে দোকান ও অফিস ভাঙচুর করেছে। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার প্রতিবেদন করা হয়েছে। ওখানে গুলির কোনো তথ্য আমরা পাইনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন পিস্তল, বন্দুক, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুমারগাড়ি এলাকায় জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে। এ সময় একটি মুদির দোকান ভাঙচুর করে লুটপাট করা হয়। অটোরিকশার গ্যারেজও ভাঙচুর করে। পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেল আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ করিমসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় লোকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
স্থানীয় জামায়াত কর্মী আব্দুল্লাহ করিম অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াকুব আলী ও আবির হোসেনসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা দখলদারিত্ব, আধিপত্য বিস্তার, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। এই নেতাদের নির্দেশে আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের শক্তি জানান দিতে আমাদের অফিসে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করেছে। এসব সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
দোকান দখল নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫
রাজবাড়ীর পাংশায় দোকান ঘর দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ও বিকেলে উপজেলার বাবুপাড়া ও কলিমহর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার বেচপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ দুপক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন- কলিমহর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহান উদ্দিন, একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদুল খানের স্ত্রী শাহানাজ বেগম, রাখি বেগম, পলি খাতুন ও শামিম। আহতরা পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, কলিমহর ও বাবুপাড়া ইউনিয়নের সীমান্তে বেচপাড়া বাজারে আনোয়ার মোল্লার কাছ থেকে ২ সার্টারের একটি দোকান ঘর কেনেন ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহান উদ্দিনের ছেলে মিলন মোল্লা। দোকান ঘরটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ ছিল। ঘটনার দিন সকালে দোকান ঘরটি নিজেদের দাবি করে তালা ভাঙতে যান শহিদুল খান গং। জাহান উদ্দিন গং বাধা দিতে গেলে শহিদুল খান গং কর্তৃক হামলার শিকার হন।
এ সময় জাহান উদ্দিন ও শামিম আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন বিকেলে বেচপাড়া বাজারে অবস্থিত শহিদুলের মুদিখানার দোকান, তার ভাই শাহিদুল খানের ব্রয়লারের দোকান, আশিকের কসমেটিকসের দোকান ও ওহিদুলের মনোহারীর দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদুল খান বলেন, আমাদের জমির দোকানটি দখলে নিতে ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহান উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে তার মেয়ে জামাই শহিদুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্র রামদা, হকিস্টিক, চাইনিজ কুড়াল, লাঠিসোঁটাসহ অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের চার ভাইয়ের দোকান ভাঙচুর করে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। দোকানের মালামালসহ নগদ আড়াই লক্ষাধিক টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, আনোয়ার মোল্লার কাছ থেকে আমার শ্যালক মিলন মোল্লা বাজারের একটি দোকান ঘর কেনেন। দোকান ঘরটি নিয়ে এর আগে ঝামেলা হওয়ায় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু শহিদুল খান ও তার ভাইয়েরা ঘরটির তালা ভেঙে তাদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমার শ্বশুর তাদের বাধা দেন। তারা আমার শ্বশুরের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় আমার ছোট ভাই শামীমকেও তারা মারধর করে। তবে দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় উভয়পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। মীমাংসা না হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজবাড়ীর পাংশায় দোকান ঘর দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ও বিকেলে উপজেলার বাবুপাড়া ও কলিমহর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার বেচপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ দুপক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন- কলিমহর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহান উদ্দিন, একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদুল খানের স্ত্রী শাহানাজ বেগম, রাখি বেগম, পলি খাতুন ও শামিম। আহতরা পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, কলিমহর ও বাবুপাড়া ইউনিয়নের সীমান্তে বেচপাড়া বাজারে আনোয়ার মোল্লার কাছ থেকে ২ সার্টারের একটি দোকান ঘর কেনেন ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহান উদ্দিনের ছেলে মিলন মোল্লা। দোকান ঘরটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ ছিল। ঘটনার দিন সকালে দোকান ঘরটি নিজেদের দাবি করে তালা ভাঙতে যান শহিদুল খান গং। জাহান উদ্দিন গং বাধা দিতে গেলে শহিদুল খান গং কর্তৃক হামলার শিকার হন।
এ সময় জাহান উদ্দিন ও শামিম আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন বিকেলে বেচপাড়া বাজারে অবস্থিত শহিদুলের মুদিখানার দোকান, তার ভাই শাহিদুল খানের ব্রয়লারের দোকান, আশিকের কসমেটিকসের দোকান ও ওহিদুলের মনোহারীর দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদুল খান বলেন, আমাদের জমির দোকানটি দখলে নিতে ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহান উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে তার মেয়ে জামাই শহিদুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্র রামদা, হকিস্টিক, চাইনিজ কুড়াল, লাঠিসোঁটাসহ অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের চার ভাইয়ের দোকান ভাঙচুর করে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। দোকানের মালামালসহ নগদ আড়াই লক্ষাধিক টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, আনোয়ার মোল্লার কাছ থেকে আমার শ্যালক মিলন মোল্লা বাজারের একটি দোকান ঘর কেনেন। দোকান ঘরটি নিয়ে এর আগে ঝামেলা হওয়ায় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু শহিদুল খান ও তার ভাইয়েরা ঘরটির তালা ভেঙে তাদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমার শ্বশুর তাদের বাধা দেন। তারা আমার শ্বশুরের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় আমার ছোট ভাই শামীমকেও তারা মারধর করে। তবে দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় উভয়পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। মীমাংসা না হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নৌকা ছিদ্র করা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কাজী গ্রুপের আমজাদ আলী বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ১৫-২০ জনকে।
মামলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা প্রামাণিক গ্রুপের আহত ৪ জনকে রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে তিনজনকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা আদালত প্রামাণিক (৬০)। তার পিঠে ধারালো অস্ত্রের কোপের ক্ষত রয়েছে। একই গ্রামের তাহের প্রামাণিকের ছেলে রাকিব প্রামাণিক (৩৫)। তার মাথা ফাঁটানো এবং স্বপন মণ্ডলের স্ত্রী ইতি খাতুন (৩৭)। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও গুরুতর অসুস্থ থাকায় গ্রেপ্তারকৃত তাহের প্রামাণিকের আরেক ছেলে রাজিব প্রামাণিক (৩২)-কে পু্লিশ পাহাড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রাখা রয়েছে।
দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার উপপরিদর্শক মো. আবু সায়েম। তিনি বলেন, পদ্মায় নৌকা ছিদ্র করাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কাজী গ্রুপ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরাও সংঘর্ষে আহত ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা গ্রামে মন্টু কাজী গ্রুপের সঙ্গে আদালত প্রামাণিক গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। কাজী গ্রুপের লোকজন চাষাবাদের পাশাপাশি পদ্মা নদীতে মাছ ধরার কাজ করেন। নদীতে তাদের বেশকিছু ডিঙি নৌকা রাখা হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে প্রামাণিক গ্রুপের সালাম কাজী গ্রুপের পাঁচটি নৌকার তলা ছিদ্র করছিল। সেসময় সালামকে হাতেনাতে ধরে কিছুক্ষণ আটকে রাখার পরে ছেড়ে দেন কাজী গ্রুপের লোকজন। পরে সালাম দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটাসহ তার লোকজন নিয়ে কাজী পাড়ায় আসে। সেসময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ১৫ জন আহত হন।
আহতরা হলেন- উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়ন আদালত প্রমাণিক, তার ছেলে জিসান প্রমাণিক, তাহের প্রমাণিকের ছেলে রাজিব ও রাকিব, হাসেম সরদারের ছেলে শুভ, আজমতের ছেলে রাহিম, শহীদ কাজীর ছেলে ছালাম কাজী, মিজানুর রহমান মন্টু, বিল্লাল হোসেন, শহীদ হোসেন, মনটু কাজী, ঝন্টু কাজী, জিন্দার শিকদার, সাইদুল শিকদার, সাজেদা খাতুন।
গত শনিবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে আলোচনা হয় আদালত প্রামাণিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, কাজী গ্রুপের লোকজন আমাদের একটা ছেলে আটক করে রেখেছিল। তা জানতে গেলে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। আমাদের অন্তত ৭ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। থানায় মামলা করা হবে।
বিকেল ৫টার দিকে কসবা গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মোড়েমোড়ে পুলিশের টহল। দুই পক্ষের লোকজন পৃথক স্থানে জড়ো হয়ে আছেন। উভয়পক্ষের বেশকিছু বাড়িতে ভাঙচুরের ক্ষত।
প্রামাণিক গ্রুপের এক নারী বলেন, আমাদের লোকজন সব হাসপাতালে। সেই সুযোগে জাদু কাজী ও মাদু কাজীসহ ১৫ -২০ জন এসে আমাদের সব ঘর ভাঙছে। গরু ও মালামাল নিয়ে গেছে।
রোববার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, আহত রাজিব বেডে শুয়ে আছেন। তার মাথা ও হাতে সাদা ব্যান্ডেজ বাধা। ডান হাতে হ্যান্ডক্যাপ পড়ানো। তাকে পাহাড়ায় রেখেছে পুলিশ।
আহত রাজিব বলেন, আহতে হয়ে হাসপাতালে চারজন ছিলাম। সকালে তিনজনকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। আমরাও মামলা করবো।
মামলার বাদী আমজাদ আলী বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সুষ্ঠ বিচারের আশায় থানায় মামলা করেছি।
কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বলেন, মাছ ধরা নৌকা ছিদ্র করাকে কেন্দ্র দু'পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় একপক্ষ মামলা করেছে। অপরপক্ষ এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ করেনি। এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা, কালাইয়ে ১৪৪ ধারা জারি
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পুনট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নেতাকর্মীর এক পক্ষের দাবি, সম্মেলন না করে বাড়িতে বসে ‘পকেট কমিটি’ ঘোষণা করেছে। আরেক পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, সম্মেলন করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ৯টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইফতেকার রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনট ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র দা, হাঁসুয়া, লাঠিসোঁটা হাতে বহনসহ অবস্থান করেছে। এ অবস্থায় পুনট বাসস্ট্যান্ডসহ পুরো ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনসাধারণের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, পুনট ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে উপজেলা ও ইউনিয়নের আহ্বায়কদের উপস্থিতিতে কাউন্সিলরদের কণ্ঠভোটে ৯টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটি হলেও সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রসহ পুনটে এসে যে কর্মকাণ্ড করেছে, তা সংগঠনবিরোধী।
জানা গেছে, কমিটি ঘোষণার খবর পেয়ে সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঘোষিত কমিটি প্রতিহত করতে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটাসহ পুনট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোলাম মোস্তফার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তার সমর্থক জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার বলেন, রাতে ঘরে বসে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা আমরা মানি না। গঠনতন্ত্রের আলোকে ফের কমিটি ঘোষণা করতে হবে। খবর শুনে আমরা পুনটে গিয়েছিলাম, পথে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাধা দিয়েছে। ১৪৪ ধারা জারি করায় আমরা ফিরে এসেছি।
কালাই থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, কেউ যদি আইন অমান্য করার চেষ্টা করেন, তাহলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত আছে।
পুড়িয়ে দেওয়া হলো আবু সাঈদের ফেস্টুন, জামায়াতের অফিসে হামলা-ভাঙচুর
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাবনা সদর থানায় এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের কুমারগাড়ী এলাকার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলো- মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, পাবনা সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নয়নামতির মৌসির মৌলবীর ছেলে মাহমুদুল হাসান,
পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও আফুরিয়া গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে আবির হোসেন, চক পৈলানপুর মোড়ের আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. রানা, তানজিল ওরফের টুকাই তানজিল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি উজ্জ্বল হোসেন, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান বিএনপি নেতা রফিক হোসেন।
এদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক ও গরু ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে আনুমানিক ২৫/৩০ জন অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী পিস্তল, বন্দুক, রামদা,
চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে। একটি মুদিখানা দোকান ভাঙচুর করে লুটপাট করে। অটোরিকশার গ্যারেজ ভাঙচুরও করে। পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেল আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ করিমসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় লোকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিহত শহীদ আবু সাঈদ ও জাহিদুল ইসলামের ফেস্টুন পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ করিম অভিযোগ করে বলেন, পাবনা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেহানুল ইসলাম বুলালের আশ্রয় প্রশ্রয়ে মালিগাছা ও হেমায়েতপুরসহ বেশ কিছু জায়গায় ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াকুব আলী, মাহমুদুল হাসান, আবির হোসেনসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা দখলদারিত্ব, আধিপত্য বিস্তার ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে।
এই নেতার নির্দেশে আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের শক্তি জানান দিতে আমাদের অফিসে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক গুলি করেছে। এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত ইয়াকুব আলী বলেন, এ ঘটনায় আমি মোটেও অবগত নয়। যখন এ ঘটনা ঘটে তখন থানার ওসি সাহেবের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেই। এর বেশি কিছু নয়।
পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, জমিজমা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি ঝগড়া চলে আসছিল। গতকাল রাতে দোকান ও অফিস ভাঙচুর করেছে। ওসি স্যারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার প্রতিবেদন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ওখানে গুলির কোনো তথ্য আমরা পাইনি।
