ছাত্রশিবিরের উপস্থিতির কারণে সভা বয়কট করলো ৫ বাম ছাত্র সংগঠন

ছাত্রশিবিরের উপস্থিতির কারণে সভা বয়কট করলো ৫ বাম ছাত্র সংগঠন




একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ক্রিয়াশীল ক্যাম্পাসের ছাত্র সংগঠনগুলোর বৈঠকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের উপস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ভুক্ত ৫ সংগঠন।  


রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্ধারিত আলোচনা শুরুর আগেই ইসলামী ছাত্র শিবিরের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানায় সংগঠনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সদুত্তর দিতে না পারায় সভাস্থল ত্যাগ করেন বৈঠকে উপস্থিত সংগঠনগুলোর নেতারা।


গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম চৌধুরী এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।


বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকে আমন্ত্রণের প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটভুক্ত সংগঠনসহ বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ সংগঠন।


এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অস্বচ্ছ, অগণতান্ত্রিক ও পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকার অভিযোগ তুলে বিবৃতে বলা হয়,  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্ত ক্রিয়াশীল, গণতান্ত্রিক শক্তির মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারংবার বিতর্কিত সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্র শিবির’কে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 


বিগত বৈঠকগুলোতে ইসলামী ছাত্র শিবিরকে কেন্দ্র করে সংগঠনগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একুশে উদযাপন বৈঠকে এই বিতর্কিত সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অথচ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলো ’৭১, ’৯০ ও ’২৪-এর গণহত্যাকারী নিপীড়ক গোষ্ঠী ও এর দোসরদের বয়কট করে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়েছিল।

অভ্যুত্থানের পরও ছাত্র শিবিরের প্রকাশনায় একাত্তরে গণমানুষের লড়াইকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। সেই সংগঠনকে একুশে উদযাপনের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো এদেশের মানুষের গণসংগ্রামের ইতিহাসের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শনের শামিল। দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের ছায়াতলে থাকা ছাত্র শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য দূষণীয়। 


একইসঙ্গে দেশের শিক্ষাঙ্গনে শিবিরের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, রগ কাটার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের হিংস্র ইতিহাসও এদেশের ছাত্রসমাজ ভুলে যায়নি। ছাত্র শিবিরের মতো একটি ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট ও বিতর্কিত সংগঠনকে বারংবার বৈঠকে ডেকে এনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোকে অকার্যকর করার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

অবিলম্বে ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবিরসহ সব পরাজিত শক্তির পুনর্বাসনের অপতৎপরতা বন্ধ করে গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের পক্ষ থেকে ছাত্র কাউন্সিলের এই নেতা।

এছাড়াও এই বিবৃতি সই করেছেন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক দিলীপ রায়, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাগীব নাঈম, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অঙ্কন চাকমা ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাওফিকা প্রিয়া। 


বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের আর্থিক সহায়তা বাতিল করলো যুক্তরাষ্ট্র


যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয়ে আরেকটি পদক্ষেপ নিলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনুমোদিত ও ধনকুবের ইলন মাস্ক পরিচালিত সংস্থা সরকারি সক্ষমতা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি বা ডোজে)। সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রাকৃতিক ইত্যাদি খাতে বরাদ্দ অর্থ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। সেই তালিকায় আছে বাংলাদেশের নাম।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজেদের অ্যাকাউন্টে সংস্থাটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

ওই ঘোষণায় বলা হয়, মার্কিন করদাতাদের অর্থ নিচের খাতগুলোতে খরচ হওয়ার কথা ছিল। এগুলো বাতিল করা হয়েছে।

এরপর কয়েকটি দেশের নাম ও যে খাতে যতটুকু অর্থ বরাদ্দ ছিল, তা তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে।

Untitled-1ডোজের এক্স অ্যাকাউন্টের ওই পোস্টের স্ক্রিনশট।

সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দুই কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ ছিল। এই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য দুই কোটি ১০ লাখ ডলারের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

তালিকায় আরও কয়েকটি দেশ ও তাদের জন্য বাতিল্কৃত তহবিলের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে আছে, মোজাম্বিকের জন্য এক কোটি, কম্বোডিয়ার জন্য ২৩ লাখ, সার্বিয়ার জন্য এক কোটি ৪০ লাখ, মলদোভার জন্য দুই কোটি ২০ লাখ, নেপালের জন্য তিন কোটি ৯০ লাখ এবং মালির জন্য এক কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। 

নবীনতর পূর্বতন