চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শ্রমিকরা, যানজটে মানুষের ভোগান্তি
 |
| সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। ছবি: আকিবুজ্জামিন |
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চার ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
এতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও সাধারণ মানুষজন।
শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, মামলা প্রত্যাহার ও শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়।
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, মামলা প্রত্যাহার ও বহিরাগত লোকজনের হামলার প্রতিবাদে বুধবার দুপুর ১টার দিকে ফতুল্লার লামাপাড়া নয়ামাটি এলাকায় অবস্থিত ইউরোটেক্স নিটওয়্যারের শ্রমিকরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বেলা ২টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকায় ঢাকাগামী ও চাষাঢ়াগামী লেনে বসে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহনের যাত্রীসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানিয়েছেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কারখানার ৯৫ জন শ্রমিককে বিনা কারণে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। অনেক শ্রমিককে বেতনও দেওয়া হয়নি।
বুধবার সকালে কারখানায় গেলে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন কারখানার স্টাফ ও বহিরাগতরা। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এর আগে শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এসব কারণে সড়ক অবরোধ করেছেন তারা।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেড পোশাক কারখানায় তিন হাজার ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন।
এক মাসের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে সম্প্রতি কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করেন তারা।
তখন কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কারখানার কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৭ শ্রমিককে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।
এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শ্রমিকরা। এর অংশ হিসেবে বুধবার সড়ক অবরোধ করেছেন তারা।
কারখানার শ্রমিক আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সকালে কারখানায় গেলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।
কয়েকজন শ্রমিক কাচের টুকরোর আঘাতে আহত হন। অনেক শ্রমিককে বিনা নোটিশে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ। এজন্য আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
অবরোধের কারণে ভোগান্তির শিকার নরসিংদীগামী ট্রাকের চালক আব্দুল বাতেন বলেন, ‘চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যানজটে আটকে আছি। শ্রমিকদের বিক্ষোভ কখন শেষ হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রহিম মিয়া বলেন, ‘যানজটে আটকে থাকায় যাত্রী অর্ধেক ভাড়া দিয়ে নেমে হেঁটে গন্তব্যে চলে গেছেন। এখন আমি যানজটে আটকা পড়ে আছি।’
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেলা ২টা থেকে চার ঘণ্টা ধরে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। আমরা তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে এখন পর্যন্ত তাদের অবরোধ চলছে।’
লড়াইয়ের মাধ্যমে মেটানো হয় বিবাদ : অভিনব উৎসব
তাকানাকুই উৎসবে লড়ছেন দুই নারী। ছবি : সংগৃহীত
একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছেন পূর্ণ শক্তিতে। গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে দুই হাত দিয়ে করছেন ঘুষাঘুষি। আবার কখনো টানছেন একে অপরের চুল। এভাবেই হাজার হাজার মানুষের সামনে লড়াই করছেন দুই নারী। তাদের দেখে করতালি দিচ্ছে উৎসুক জনতা। উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি দুই নারীর এমন লড়াইয়ে যেন চাঙা হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ।
খালি হাতে কিল-ঘুষির এই লড়াই এক ধরনের উৎসব। প্রতি বছরই ঘটা করে এই উৎসব পালন করা হয়। আর এই লড়াই দেখতে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। বড়দিনের ভোরবেলায় পেরুতে ঐতিহ্যবাহী এই তাকানাকুই আয়োজন করা হয়ে থাকে।
এই উৎসবে মারামারির মাধ্যমে পুরোনো বিরোধ মীমাংসা করা হয়। শুধু বীরত্ব প্রকাশের জন্যও এই লড়াইয়ে অংশ নেন অনেকে। উন্মুক্ত একটি মাঠে দুই নারী একে অপরের বিরুদ্ধে খালি হাতে লড়াইয়ে নামেন। এটা অনেকটা কুস্তি খেলার মতো। তবে এখানে কিলঘুসি সহ প্রতিপক্ষকে সবরকম ভাবে আঘাত করা যায়।
তাকানাকুই এর উৎপত্তি পেরুর চুমবিভিলকাস প্রদেশে। কুয়েচুয়া ভাষায় তাকানাকুই অর্থ হচ্ছে একে অন্যকে আঘাত করা। উৎসব উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে চলে মদ্যপান আর নাচগান। তাকি উনকুই নামক প্রতিরোধ আন্দোলনকে সম্মান করে গাওয়া হয় ওয়েইলিয়া নামের বিশেষ ঘরানার সঙ্গীত।
সাধারণত তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না তাকানাকুই লড়াই। পুরো লড়াই পরিচালনা করেন একজন রেফারি। এই লড়াইয়ে শুধু ঘুষি ও লাথির অনুমতি রয়েছে। আর প্রতিপক্ষ মাটিতে পড়ে গেলে তাকে আঘাত করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
কীভাবে অভিনব এই উৎসবের উৎপত্তি হয়েছে তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে উৎপত্তি যেভাবেই হোক নিঃসন্দেহে বিবাদ মেটানোর অনন্য এক উপায় এটি।