পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয় এলাকায় বিডিআর বিদ্রোহের আন্দোলনকারীরা
পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয় এলাকায় ঢুকে পড়েছেন বিডিআর বিদ্রোহের আন্দোলনকারীরা। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মাহিন সরকার। দুপুর ১টার পর পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ের সামনে রাস্তায় কাফনের কাপড় পড়ে শুয়ে পড়েন আন্দোলনকারী।
সরেজমিন দেখা গেছে, আন্দোলনকারী প্রথমে খাদ্য অধিদফতরের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন। এরপর সচিবালয় এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ জলকামান দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশি বাধা পেরিয়ে সচিবালয় এলাকায় ঢুকে পড়ে তারা।
য় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন করছেন সাবেক বিডিআর সদস্যরা। এবার ছয় দফার সঙ্গে আরও দুই দফা যুক্ত করেছেন তারা। তাদের আট দফা দাবির হলো–
১. পিলখানার ভেতরে ও বাইরে ১৮টি বিশেষ আদালত ও অধিনায়কের সামারি কোর্ট গঠন করে যেসব বিডিআর সদস্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
২. ইতোমধ্যে হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত এবং সাজা শেষ হওয়া জেলবন্দি বিডিআর সদস্যদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রহসনের বিস্ফোরক মামলা বাতিল করতে হবে।
৩. গঠিত কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত শব্দ এবং কার্যপরিধি ২-এর (ঙ) নং ধারা বাদ দিতে হবে। একইসঙ্গে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে অন্যায়ভাবে দণ্ডিত সব ধরনের নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের মুক্তি দিতে হবে এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদঘাটন, মূল ষড়যন্ত্রকারী, হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৪. পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, ১০ জন বিডিআর সদস্যসহ সর্বমোট ৭৪ জনের হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে জেলের ভেতর মারা যাওয়া প্রত্যেক বিডিআর সদস্যের মৃত্যুর সঠিক কারণ উন্মোচন করতে হবে। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকলে দায়ী সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৫. পিলখানা হত্যাকাণ্ডে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।
৬. সব শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের মরদেহ পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে সঠিকভাবে শনাক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ধারনকারী বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনতে হবে।
৮. পিলখানার হত্যাকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে জাতীয় দিবস ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের পরিবারের সব ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মেয়ের চুরির অপবাদে মাকে মারধরে হত্যা
রাজধানীর মুগদার মানিকনগর এলাকায় মেয়ের চুরির অপবাদ দিয়ে মা আয়েশা বেগমকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা আয়েশা বেগমের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এর আগে, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রতিবেশীরা মেয়ে রুমী আক্তারকে চুরির অপবাদ দিয়ে মা আয়েশাকে মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। মঙ্গলবার রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান বলেন, সংবাদ পেয়ে মুগদা হাসপাতালে থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
নিহত আয়েশা বেগমের মেয়ে রুমী আক্তার বলেন, মানিকনগর প্রফেসার গলির একটি বাসা থেকে গত কয়েকদিন আগে এক লাখ টাকা চুরি হয়। বিষয়টি জানতে গত সোমবার সকালে আমি ওই বাসায় যাই। ওই বাসার লাকি, পপি, সাথী, পাপিয়াসহ আরও কয়েকজন আমাকে সন্দেহ করে এবং আমাকে চাল পরা খাওয়াবে বলে। পরে দুপুরের দিকে আমার মা আয়েশা ওই বাসায় গেলে, লাকি, পপি, সাথী, পাপিয়াসহ বাড়ির অন্যরা মিলে আমার মাকে কিল, ঘুষি মারে। পরে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে মা মারা। আমার মাকে বিনা দোষে হত্যা করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
তিনি আরও জানান, তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার বুইড়ার চড় গ্রামে। বাবা শফিক অনেক আগেই মারা গেছেন। তার মা আয়েশা বেগম বর্তমানে মুগদার মান্ডা প্রথমগলি চাঁন মসজিদ সংলগ্ন একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং ওই এলাকায় শাকসবজি বিক্রি করতেন।