চিঠি পেলেও পড়বেন না পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের কোনো চিঠি গ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল অসিম মুনির। সেনাপ্রধান বলেছেন, চিঠি পেলেও সেটি পড়বেন না তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমের সাথে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলার সময় কারাবন্দি ইমরান খানের খোলা চিঠির প্রসঙ্গ এলে সেনাপ্রধান ওই সব বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, যদি এই ধরনের কোনো চিঠি পান তবে তিনি তা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন।
দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ পর্যন্ত কয়েক ডজন মামলায় ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন ইমরান খান। এ সময়ের মধ্যে সেনাপ্রধানের উদ্দেশে তৃতীয়বার খোলা চিঠি লেখার একদিন পর জেনারেল মুনির মন্তব্য করেন ।
তৃতীয় চিঠিতে কারাবন্দি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, কারচুপি করা ভোটের মাধ্যমে অর্থ পাচারকারীদের ক্ষমতায় আনা হয়েছে।
তার আইনজীবী ফয়সাল চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেছেন, সেনাপ্রধানকে লেখা তার চিঠিতে পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা নির্বাচনী জালিয়াতির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠদের চেয়ে সংখ্যালঘুদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।
চিঠির প্রসঙ্গ শেষে জেনারেল মুনির দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, দেশ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলেছে এবং পাকিস্তান উন্নয়নের পথে রয়েছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যেতে হবে।
এদিকে ইমরানের মুক্তির বিষয়ে মার্কিন চাপ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেন, পাকিস্তান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক যে কোনো ব্যক্তি, দল বা ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিচালিত হয়।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সাম্প্রতিক মার্কিন সফরের পর আসিফ এমন মন্তব্য করেছেন। সফরে তিনি ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং অন্যান্য আইনপ্রণেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। নাকভি এই বৈঠকগুলোর ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ বৈঠক দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের গুরুত্বকে প্রতিনিধিত্ব করে।
‘বউ মেলায়’ নারীদের ভিড়
মেলার নাম ‘বউ মেলা’। যে মেলায় কেনাকাটা করেন মেয়েরা, বিক্রেতাও মেয়েরা। ছোটবড় সব বয়সী মেয়েরাই এখানে বেচাকেনা করেন। এজন্য মেলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বউ মেলা’।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের পোড়াদহ মেলার দ্বিতীয় দিন বসে ‘বউ মেলা’। সকাল থেকেই এলাকার নানা বয়সী মেয়েরা কেনাকাটার জন্য আসতে থাকেন। দুপুরের দিকে মেলা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে ক্রেতাদের পদভারে।
মেলায় আগত জরিনা, মমতা, আকলিমা বেগম জানান, তারা প্রতি বছর নিজেদের ব্যবহারের জন্য কসমেটিক্স ও ইমিটেশনের গয়না কেনেন এই মেলায়। এবারও এসেছেন। তবে এবার দাম কিছুটা বেশি। মেলায় চুড়ি, ফিতা, দুল, মালা, আংটিসহ সব ধরনের ইমিটেশন রয়েছে। বিক্রেতা আলেয়া, খাদিজা বেগম জানান, বেচাবিক্রি খুব ভালো।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্বে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ি বাজার সংলগ্ন ইছামতি নদীর শাখা গাড়িদহ খালের তীরঘেঁষে প্রায় ৪০০ বছর আগে থেকে মাঘ মাসের শেষ বুধবার সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে বসে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। বিশাল আকৃতির মাছের জন্য বিখ্যাত এ মেলা উপলক্ষে আশপাশের ২০টি গ্রামের বাড়িতে শুরু হয় উৎসব। প্রতিটি বাড়িতে নতুন বউ-জামাই যেমন আসেন, তেমনি পুরোনো আত্মীয়স্বজনও কেউ বাদ পড়েন না। কিন্তু সেসব আত্মীয়স্বজনের মধ্যে শুধু পুরুষরাই পোড়াদহ মেলায় যাওয়ার সুযোগ পান। নিরাপত্তা এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় মেলায় নারীরা প্রবেশ করতে পারেন না। এ অবস্থায় নারীদের নিয়ে এই মেলার আয়োজন করা হয় ২০ বছর আগে। এরপর থেকেই পোড়াদহ মেলার পরদিন এ মেলা বসছে। নারীদের জন্য আয়োজন করা মেলাটি এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘বউ মেলা’ হিসেবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ত্রিপল ও সামিয়ানা টানিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন দোকানিরা। মেয়েদের প্রসাধনী সামগ্রীই মেলার প্রধান উপজীব্য হলেও তার সঙ্গে স্থান পায় ছোটদের খেলনা সামগ্রী আর গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন নারী ও শিশুরা।
দোকানিরা জানান, মেলায় নারীরাই যেহেতু ক্রেতা, তাই প্রসাধনী সামগ্রীই সেখানে বিক্রি হয় বেশি। নারীদের প্রসাধনীর পাশাপাশি শিশুদের খেলনার বিক্রিও ভালো বলে জানান তারা।
মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি ও মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ মণ্ডল জানান, পোড়াদহ মেলা উপলক্ষে এখানকার বাসিন্দাদের রেওয়াজ হয়ে উঠেছে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের নিমন্ত্রণ জানিয়ে খাওয়ানো। কিন্তু সেসব স্বজনের মধ্যে যেসব নারী আসেন, তারা মেলায় যেতে পারেন না বলে বিষয়টি খুবই পীড়াদায়ক ছিল। এ কারণেই মূলত বউ মেলার আয়োজন করা। এখানে যেসব পুরুষ মানুষ সঙ্গে আসছেন তারা নিজেদের ইচ্ছায়ই মেলার ভেতরে ঢোকেন না।
গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশ। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বক্ষণিক পুলিশের টহল জোরদার করা হয়।
হাতিয়ায় সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর বাসায় অগ্নিসংযোগ
নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর বাসায় অগ্নিসংযোগ করেছে ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এমপির পোল সংলগ্ন বাসায় এ অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভাষণকে কেন্দ্র করে সারা দেশের ন্যায় হাতিয়ায়ও বিক্ষোভ করেছে ছাত্র-জনতা। পরে তারা একত্রিত হয়ে মোহাম্মদ আলীর বাসায় অগ্নিসংযোগ করেন।
এ সময় ছাত্র-জনতা ‘স্বৈরাচারের বাড়িতে আগুন জ্বালো একসাথে, ফ্যাসিবাদের বাড়িতে আগুন জ্বালো একসাথে, জলদস্যুর বাড়িতে আগুন জ্বালো একসাথে, জ্বালো রে জ্বালো আগুন জ্বালো, হান্নান ভাইয়ের হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর ঠাঁই নাই, মোহাম্মদ আলীর আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এলাকাবাসী জানান, রাত ১০টার দিকে ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় মোহাম্মদ আলীর লোকজন আলী ভাই আলী ভাই স্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় তারা ছাত্র জনতার ওপর ইটপাটকেলসহ গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় তারিফ ও আরিফ নামে দুজন আহত হয়। গুরুতর অবস্থায় তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।