আদালত এলাকা থেকে ঠিকাদারকে অপহরণ, ৩০ ঘণ্টায়ও মেলেনি সন্ধান-
চট্টগ্রাম নগরের আদালত এলাকা (কোর্ট বিল্ডিং) থেকে মোহাম্মদ ইদ্রিস নামে এক ঠিকাদারকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাকিলা সোলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নগরের আদালত এলাকা থেকে ওই ঠিকাদারকে অপহরণের অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। আমরা ওই ঠিকাদারকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’
অপহরণের শিকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের গ্রামের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলায়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদফতর এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে অনেক বছর ধরে ঠিকাদারের কাজ করেন তিনি।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালত এলাকার জহুর হকার্স মার্কেট থেকে কেনাকাটা করে বের হন ইদ্রিস। তার সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। এ সময় কথা আছে বলে ইদ্রিসকে ডেকে একটি দোকানে নিয়ে যান এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ইদ্রিসের ভাই মোহাম্মদ ইলিয়াস বাংলা ট্রিবিউনকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘ইদ্রিস চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদফতর এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে অনেক বছর ধরে ঠিকাদারির কাজ করেন। বুধবার তাকে অপহরণ করা হয়েছে। আমরা কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। সেনাবাহিনীকেও বিষয়টি জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরের এ কে খান মোড় থেকে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী অপহরণের শিকার হন। তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইলে নম্বরে কল দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরদিন ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের পাশাপাশি নগরের কর্নেলহাট এলাকা থেকে নিজাম উদ্দিন রাসেল (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরলেন পাঁচ কাঠুরিয়া
কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে অপহৃত পাঁচ কাঠুরিয়া মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। অপহরণের দুই দিন পর তাদের ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা। তবে তাদের ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে অপহৃতদের ৫ জনকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী পাহাড়ের পাদদেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া পাঁচ জন হলেন, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়া ও বাইন্ন্যাপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল হকের ছেলে মারুফ উল্লাহ (১৮), মোহাম্মদ হাসানের ছেলে মোহাম্মদ কাইফ উল্লাহ (১৭), হামিদুল হকের ছেলে মোহাম্মদ ইসা (২৮), মৃত কালা মিয়ার ছেলে ইউসুফ উল্লাহ (৩০) এবং শফিউল আজমের ছেলে মো. আবুইয়া (২০)
বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হুমায়ুন কাদের চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মাঠপাড়া ও বাইন্ন্যাপাড়া এলাকার ১৫ জন স্থানীয় পাহাড়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে যান। একপর্যায়ে স্থানীয় চাকমাপাড়া-সংলগ্ন এলাকার পূর্ব পাশের পাহাড়ি এলাকায় একদল অপহরণকারী অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে। পরে তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে জিম্মি রেখে অন্যদের ছেড়ে দেয়।
ইউপি সদস্য হুমায়ুন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘বুধবার রাতে অপহৃতদের ছেড়ে দিতে স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহৃতের স্বজনরা জানান, পরে কয়েক দফা আলোচনা করে ৫ জনের পরিবার মোট ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিলে শুক্রবার সকালে তাদের ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর থেকেই পুলিশ অপহৃতদের উদ্ধারে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। একপর্যায়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বজনরাও মুক্তিপণ দেওয়ার কোনও তথ্য পুলিশকে জানায়নি। এ বিষয়ে ৫ জনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’