কেন জামায়াতকে পছন্দ করেন না, জানালেন রিজভী

কেন জামায়াতকে পছন্দ করেন না, জানালেন রিজভী


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় মুনাফেকি করেছে এবং এখনো করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শহিদ অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদ মণ্ডলের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাগমারার তাহেরপুরের বিএনপি নেতা অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদ মণ্ডলকে হত্যা করে চরমপন্থিরা।

রিজভী আহমেদ বলেন, আমরা জামায়াতকে সমর্থন করিনি। বিএনপির উদারতার কারণে তারা বাংলাদেশে প্রথম রাজনীতি করার সুযোগ পায়; কিন্তু সব সময় এ দলটি মুনাফেকি করেছে। মুনাফেকি ছাড়া তারা কিছু করেনি। তাদের বিষয়ে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা মুখে ভালো কথা বলে আবার ভেতরে খারাপ চিন্তায় মগ্ন থাকে।

তিনি বলেন, যে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করেছে, হত্যা করেছে নির্বিচারে, জামায়াত বলে বসল- তারা আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেবে। শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধর রক্তকে কিভাবে মাফ করবেন? প্রশ্ন রাখেন রুহুল কবির রিজভী।

জামায়াতকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে কথা বলছে ও উস্কানি ছড়াচ্ছে। সেই ভারত আপনাদের কাছে প্রিয় হয়ে গেল কিভাবে। এটা খুবই দুঃখজনক। ভারত কখনই বাংলাদেশের ভালো চায়নি। আগামীতেও চাইবে না- এটা দেশের মানুষকে মনে রাখতে হবে।

বাগমারার তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নঈম মো. সামসুর রহমান মিন্টুর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার, রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ আলী ঈশা, সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ প্রমুখ।

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে যে পরামর্শ দিল জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা, ভোটারদের একটি অংশকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে- এমন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণআন্দোলনের বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়।


রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে যে পরামর্শ দিল জাতিসংঘ

ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা, ভোটারদের একটি অংশকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে- এমন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছে।


বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণআন্দোলনের বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়।


সাংবাদিক, আওয়ামী লীগ সমর্থক, সংখ্যালঘু নেতা, মানবাধিকারকর্মী এবং নাগরিক বা রাজনৈতিক ভিন্নমত প্রকাশকারী অন্যরা যাতে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, অপ্রমাণিত ফৌজদারি মামলা বা অন্য ধরনের ভীতি প্রদর্শনের শিকার না হন- তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে জাতিসংঘ।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিশোধমূলক সহিংসতা থেকে তাদের কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পদক্ষেপ নিন এবং এই ধরনের হামলায় জড়িত অপরাধীদের বিষয়ে তদন্ত ও বিচার করুন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হামলাসহ নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিও সহজতর করুন।


শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করারও সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ। দেশের নাগরিকদের নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের (নাগরিক) সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।


রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা যাতে মানবাধিকারের নীতির প্রতি সম্মান দেখায়- তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা শুরুরও সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।


জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত ক্ষেত্রে অস্থায়ী বিশেষ ব্যবস্থাসহ রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে প্রকৃত সমতা নিশ্চিতে আইন ও বিধি-বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জাতিসংঘ বলেছে, রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা ‘সত্যিকারের বহুদলীয় গণতন্ত্র’ পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে ক্ষুণ্ন করবে এবং বাংলাদেশের ভোটারদের একটি বড় অংশকে কার্যকরভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।

এ ছাড়া সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের আগে বিশেষ ব্যবস্থাসহ অবাধ ও প্রকৃত নির্বাচনের জন্য নিরাপদ এবং অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতের সুপারিশও করা হয় প্রতিবেদনে।



নবীনতর পূর্বতন