জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলা পটুয়াখালীর কলাপাড়ার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির গ্রামের বাড়ি দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আক্ষেপ করে কাফির বাবা মাওলানা মো. এবিএম হাবিবুর রহমান বলেন, আগুনে পুড়ে সব শেষ হয়ে গেছে, আর কিছু নেই। আমাদের পুড়িয়ে মারার জন্যই এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এর তদন্তপূর্বক বিচার চাই।
অগ্নিকাণ্ডের পর রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নুরুজ্জামান কাফি একটি স্ট্যাটাস দেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘মধ্য রাতে আমার বাড়ির ঘর, রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে। কোন দেশের জন্য, কাদের জন্য কথা বলেছিলাম! যুদ্ধ করেছিলাম এবং করছি। নিরাপত্তা পাইনি।’
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. ইলিয়াস হোসাইন। তিনি বলেন, রাত সোয়া ২টার দিকে আমাদের মোবাইলে কল আসে নুরুজ্জামান কাফির বাসায় আগুন লেগেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে যাই। যাওয়ার পর দেখি আগুন সিলিংয়ে উঠে গেছে। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যই আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হই। পাশের গোয়াল ঘরটাকে নিরাপদ রাখতে পেরেছি। মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। বাড়ির সবাই নিরাপদে ও অক্ষত আছে।
প্রতিবেশী ওয়ালি উল্লাহ ইমরান বলেন, আমরা আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। তাদের সঙ্গে আমরাও আগুন নির্বাপণের কাজে নেমে যাই। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, কারণ জানালার বাহির থেকে ছিটকানি লাগানো ছিল। সবাই খালি কাপড়ে নেমে পড়ছে। কোনো রকমে জানে বেঁচে গেছে।
উল্লেখ্য, নুরুজ্জামান কাফির বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার রজপাড়া গ্রামে। তার বাবা রজপাড়া দ্বীন-এ-এলাহী দাখিল মাদ্রাসার সুপার। তারা দুই ভাই। তিনি করোনার সময় মশার কয়েল ও প্রাক্তনকে নিয়ে করা কনটেন্টে ভাইরাল হয়েছেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
৩২ নম্বরের জেরেই বাড়িতে আগুন, দাবি কাফির
ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের জেরেই তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আগুনে পোড়া নিজ বাড়ির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় কাফি বলেন, ‘৩২ নম্বরের সামনে আমি বুলডোজারের সামনে স্লোগান দিয়েছি- ছি ছি হাসিনা, লজ্জায় বাঁচি না। সেদিন আওয়ামী লীগের দোসররা ঘোষণা দিয়েছিল যে, যারা ৩২ পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হবে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রথম আক্রোশের শিকার আমি। এটাই তা প্রমাণ করে।’
তিনি বলেন, ‘এটা এই সরকারের ব্যর্থতা। আমি চাই, এই সরকার আরও শক্তিশালী হোক। যদি এ সরকার ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা বলুক। তাহলে এ দেশের সাধারণ জনগণ বিপ্লবী সরকার গঠন করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এ সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিলাম। এই ৭ দিনের মধ্যে যদি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্বৃত্তদের আটক করাসহ আমার বাড়ি পুনরায় তৈরি করতে না পারে, তাহলে আমি ঢাকা-কলাপাড়া রাজপথে বিপ্লবী সরকারের ডাক দেব।’
এর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আমি এই দায়িত্বহীন সরকারকে বিগ মেসেজ দেব। মেসেজ সম্পূর্ণভাবে মানবে, নতুবা আমিই নিজেই বিকল্প হবো- আমিই বিপ্লবী সরকার হবো।’
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রজপাড়ায় তার গ্রামের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাফির পিতা মাওলানা মো. এবিএম হাবিবুর রহমান। তবে কারা এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন।
যেভাবে প্রাণে বাঁচলেন কাফির মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলা কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির বাড়ি। এ ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যান তার মা-বাবাসহ পরিবারের ছয় সদস্য। এদিকে এই অগ্নিকাণ্ড পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছেন কাফি।
এর প্রতিবাদে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানাধীন তার পোড়াবাড়িতে সাংবাদিকদের ডেকেছেন তিনি।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে তার গ্রামের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেশী ওয়ালি উল্লাহ ইমরান বলেন, আমরা আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। তাদের সঙ্গে আমরাও আগুন নির্বাপণের কাজে নেমে যাই। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, কারণ জানালার বাহির থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। সবাই খালি কাপড়ে নেমে পড়ছে। কোনো রকমে জানে বেঁচে গেছে।এ ঘটনায় কাফির বাবা মাওলানা মো. এবিএম হাবিবুর রহমান বলেন, বাইরে থেকে দরজা আটকে ঘরে আগুন দেওয়া হয়। যে যার মতো করে দরজা ভেঙে বের হয়েছি। আগুনে পুড়ে সব শেষ হয়ে গেছে, আর কিছু নেই। আমাদের পুড়িয়ে মারার জন্যই এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এর তদন্তপূর্বক বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, আগুনে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. ইলিয়াস হোসাইন কালবেলাকে বলেন, রাত সোয়া ২টার দিকে আমাদের মোবাইলে কল আসে নুরুজ্জামান কাফির বাসায় আগুন লেগেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে যাই। যাওয়ার পর দেখি আগুন সিলিংয়ে উঠে গেছে। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যই আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হই। পাশের গোয়াল ঘরটাকে নিরাপদ রাখতে পেরেছি। মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। বাড়ির সবাই নিরাপদে ও অক্ষত আছে।
আমিই বিপ্লবী সরকার হবো : কাফি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আগুনে বাড়ি পুড়ে ছাই হওয়ায় বেশ চটেছেন জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলা কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি। এ ঘটনায় তার পোড়া বাড়িতে সাংবাদিকদের ডেকেছেন তিনি। সেখানে তিনি সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেন।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাংবাদিকদের আহ্বান করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি আজ সকাল ১১টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানাধীন তার পোড়া বাড়িতে জেলার সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।
সেখানে তিনি লিখেন, ‘আমি এই দায়িত্বহীন সরকারকে বিগ মেসেজ দেব। মেসেজ সম্পূর্ণভাবে মানবে, নতুবা আমিই নিজেই বিকল্প হবো- আমিই বিপ্লবী সরকার হবো’।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রজপাড়া গ্রামের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাফির পিতা মাওলানা মো. এবিএম হাবিবুর রহমান। তবে কারা এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন।