আ.লীগের নারী কর্মীকে বেঁধে রেখে পুলিশে সোপর্দ

আ.লীগের নারী কর্মীকে বেঁধে রেখে পুলিশে সোপর্দ



রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের এক নারী কর্মীকে বেঁধে রেখে পুলিশ ডেকে তুলে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ জনতা। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর কাদিরগঞ্জ আমবাগান এলাকায় রুমানা ইসলাম আঁখি নামের ওই আওয়ামী লীগ কর্মীকে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় তাকে মারধরও করা হয়।


পরে খবর পেয়ে বোয়ালিয়া থানা-পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। বোয়ালিয়া থানার ওসি মেহেদী মাসুদ জানান, মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ওই নারীকে নাশকতার মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে অপারেশন ডেভিল হান্টের অভিযানে সোমবার রাতে রাজশাহীতে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বোয়ালিয়া থানার তিনটি মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


এরা হলেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুমন (৪০), কাশিয়াডাঙ্গা থানা যুবমৈত্রীর আহবায়ক হাফিজুর রহমান সাগর (৪৫) ও ছাত্রলীগ কর্মী আতিকুর রহমান (২৪)।


অপরদিকে জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম জানান, জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়টি মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পেঁয়াজ ক্ষেতে মিলল যুবলীগ নেতার লাশ


মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে এক যুবলীগ নেতা আমজাদ হোসেনের (৩৮) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের সরফদিনগর ফসলের মাঠ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।


হরিরামপুর থানা ওসি মুহাম্মদ মুমিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত আমজাদ হোসেন সরফদিনগর গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে।


স্থানীয়দের বরাতে ওসি মুহাম্মদ মুমিন খান বলেন, সকালে স্থানীয়রা খবর দিলে বাল্লা ইউনিয়নের একটি ফসলি জমির সীমানার পাশে ডাঙার পার থেকে আমজাদ হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলতে পারব।


আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের বরাতে বাল্লা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রেজা বলেন, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আমজাদের বাবাসহ পরিবারের লোকজন একটি মেলায় যায়। সেখান থেকে কে বা কারা তাকে ফোনে ডেকে নেয় বলে শুনেছি।তিনি বলেন, স্থানীয় একজনের সঙ্গে শত্রুতা নিয়ে ভাদিয়া খোলায় একবার সমাজিকভাবে বসাও হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক বছর আগে এলাকায় এক পরিবারের সঙ্গে মামলাও ছিল যা এরইমধ্যে শেষ হয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাদেশ সুষম উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘আমজাদ হত্যার বিচার চাই। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার ও হরিরামপুর থানার ওসির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সরফদিনগর গ্রামটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, এ গ্রামে অতীতেও বহু হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। তাই বিশেষভাবে মামলটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।


ওসি মুহাম্মদ মুমিন খান আরও বলেন, সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আ.লীগ নেতার উসকানিতে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ


যশোর সদর উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলার বড় হৈবতপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

আহতরা হলেন- হৈবতপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি রাজু (৪৪), ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সম্পাদক শামীম (৩৬), বিএনপি কর্মী জিয়া (৩৫) এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কোষাধক্ষ পাপ্পু।

স্থানীয়রা জানান, চুরামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দাদের চাষাবাদের জমি রয়েছে হৈবতপুর ইউনিয়নের বড় হৈবতপুর গ্রামে। যাদের জমি রয়েছে বড় হৈবতপুর গ্রামে তাদের মধ্যে রয়েছেন চুরামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমান। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আনিছুর নিজের জমিতে সেচের পানি দিতে হৈবতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জমির আইল কেটে দিতেন।

এ নিয়ে প্রতিবাদ করার কারও সাহস ছিল না। মঙ্গলবার অন্যের পানি নিজের জমিতে দেওয়ার জন্য আইল কেটে দেন আনিছসহ তার লোকজন। ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে আনিছুর নিজ এলাকার মসজিদের দুটি মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন ডাক দেয়। কিছু সময়ের মধ্যে ৫০/৬০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলে আসে। অন্যদিকে বড় হৈবতপুর গ্রামবাসীও সেখানে চলে আসে।

তারা আরও জানান, এ সময় দুই গ্রামের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেন যুবদল নেতা রাজু। দুপক্ষের মধ্যে মীমাংসাও হয়ে যায়। পরে হৈবতপুরের লোকজন বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন। এমন সময় আনিছের নেতৃত্বে শফিক, সন্ত্রাসী তৌহিদ এবং রমজানসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হৈবতপুরের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত হন চারজন।

হৈবতপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাজেদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের শাসন আমলে ইউপি সদস্য আনিছ যা ইচ্ছে তা করেছেন। গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী বাহিনী। তার নেতৃত্বে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদককারবার, হৈবতপুরের মাঠ থেকে সাধারণ মানুষের ফসল তুলে নিয়ে যাওয়া, অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবিসহ নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল হৈবতপুরবাসী।

তিনি আরও বলেন, থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে গেছে। সরকার পতনের পর থেকে আনিছ চক্র আত্মগোপন করে। কিন্তু সম্প্রতি ফের প্রকাশ্যে এসে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আনিছ বাহিনী।

যশোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মিঠুন কুমার বলেন, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় বেশ কয়েকটি ক্ষত রয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

যশোর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক রানা বলেন, আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠার চেষ্টা করছে। আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে আহত হয়েছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। জড়িতদের দ্রুত আটকের দাবি জানাই।

কোতোয়ালি থানার ওসি কাজী বাবুল কালবেলাকে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

বগুড়ায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার কড়িতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ঠান্ডু বলেন, ‘কড়িতলা হাটের ইজারা এবং আগামী বুধবার ঐতিহাসিক পোড়াদহে মেলা বসানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শনিবার রাত ৮টার দিকে কামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোখলেছুর রহমান হিল্টুর নেতৃত্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। তাতে সাতজন আহত হয়।

রেজাউল করিম ঠান্ডু আরও বলেন, হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পুটু (৪০), ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি স্বপ্ন মিয়া (৪০), বাচ্চু মিয়া (৪৫), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু আলম (৩৫), ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য রাসেল মিয়া (৩৫), ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আলমগীর হোসেন (৪০) এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সুজন মিয়া (৪৫)। আহত ব্যক্তিরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অপরদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোখলেছুর রহমান হিল্টু বলেন, তার লোকজন বাজারে চা পান করছিলেন। এ সময় সভাপতি রেজাউল করিম ঠান্ডুর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। তাতে আমার পক্ষের ছয়জন আহত হন।

তারা হলেন- কামালপুর কড়িতলা গ্রামের কামাল হোসেন (৩৮), সমসের আলী মণ্ডল (৫৫), গোলাম কিবরিয়া (৩৫), আজাদ মিয়া (৩০), মাজু সরকার (৬০) এবং রৌহাদহ গ্রামের নিয়ামত সোবদুল খাঁ। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, ‘আহতদের মধ্যে সাতজন বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ও চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছি।’

চাঁদা দাবির অভিযোগে জামায়াত কর্মী বহিষ্কার


সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাসে চাঁদা দাবির অভিযোগে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী জাকির হোসেনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আ ন ম আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে গঠনতন্ত্রের ৬২নং ধারার ২ উপধারা অনুযায়ী জাকির হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত জাকির হোসেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর গজারিয়া গ্রামের জহির আহমদের ছেলে। তিনি ফেনী পৌর জামায়াতের নিষ্ক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা যায়।

জানা গেছে, রোববার অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসানের কাছ থেকে চাঁদা দাবির ২ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে পরে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডে শোনা যায়, কত টাকা দিতে হবে জাকির হোসেনের কাছে জানতে চান মাহমুদুল হাসান। জবাবে জাকির বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে এবং সমীর নামে একজনের বিষয় আছে বলে উল্লেখ করেন। এ সময় মাহমুদুল হাসান মামলার খরচ আগে দুই লাখ টাকা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন এবং আরও লাগবে কি-না জিজ্ঞেস করেন। এ ছাড়া এর আগে ওসির জন্য দেওয়া এক লাখ দিয়েছেন কি-না জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে জাকির হোসেন বিবেচনা করে টাকা দেওয়ার কথা বলেন এবং মামলা ডিসক্লোজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল হান্নান কালবেলাকে জানান, বহিষ্কৃত জাকির হোসেন মিয়া জামায়াতের শহর শাখার একজন নিষ্ক্রিয় কর্মী ছিলেন। যেহেতু তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে সে জন্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠনের ৬২নং ধারার ২ উপধারা অনুযায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার ওসি তদন্ত ইকবাল হোসেন কালবেলাকে জানান, আমরা ফাঁস হওয়া অডিওটি শুনে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। টাকা দিয়ে কোনো অপরাধী তার অপরাধ থেকে বাঁচতে পারবে না। এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি, এলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ২২ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান

লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে ২২টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। জ্বালানি তেলের দোকানে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মুদি ও কাপড়ের দোকান ছিল।

অধ্যাপকের গালে চড় মারলেন শেখ হাসিনা হলের ছাত্রী


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক নারী শিক্ষার্থীর হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কুরবান আলী। অভিযুক্ত আফসানা এনায়েত এমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের ‘নৌকা প্রতীক’ ও শেখ হাসিনার ম্যুরাল ভাঙতে গেলে হলটির নারী শিক্ষার্থীদের বাধার সম্মুখীন হন বিক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময়ে হলের নারী শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার এক পর্যায়ে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কুরবান আলীর মুখে চড় মারেন শেখ হাসিনা হলের শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েত এমি।

ভুক্তভোগী সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কুরবান আলী বলেন, আমরা ওইদিন রাতে আমাদের দায়িত্ব পালনের জন্য শেখ হাসিনা হলে গিয়েছিলাম। আমরা তো কারো শত্রু না। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জন্য হলের নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা আমাদের কথা শুনতেই রাজি হয়নি। এর এক পর্যায়ে আফসানা এনায়েত ইমি নামের এক শিক্ষার্থী আমার শরীরে আঘাত করে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আফসানা এনায়েত এমির মুটোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

* অপারেশন ডেভিল হান্টে হামলা! যৌথ বাহিনীর গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ *

অপারেশন ‘ডেভিল হান্টের’ তৃতীয় দিনে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় যৌথ বাহিনীর গাড়িতে ককটেল হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। যৌথ বাহিনী আত্মরক্ষার্থে ২৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাশার মার্কেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। যৌথ বাহিনী তাৎক্ষণিক দুইজনকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত নুরুল হকের ছেলে মো. নবীর উদ্দিন (৫০) ও হাজী আব্দুল মতিনের ছেলে মো. ইমাম হোসেন (৫০)।


যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১১টার দিকে যৌথ বাহিনী খবর পায় বাশার মার্কেট এলাকার কাউছার মিয়ার ব্রিকফিল্ডের সামনের মাঠে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। তাৎক্ষণিক নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টের কমান্ডার আফসার আহমেদের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ব্রিকফিল্ডের সামনের মাঠ থেকে সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করে। 


আত্মরক্ষার্থে তৎক্ষণাৎ যৌথ বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং মোট ২৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে সন্ত্রাসীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করা হলে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জন পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে যৌথ বাহিনী মো. নবীর উদ্দিন ও মো. ইমাম হোসেন নামের দুই চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়। 


এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল (ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলিসহ), তিনটি একনলা দেশীয় বন্দুক, আটটি কার্তুজ, ২০টি ককটেল, দুইটি ডেগার, তিনটি ক্রিজ ও একটি তলোয়ার উদ্ধার করা হয়। যৌথ এ অভিযানে নৌবাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ অংশগ্রহণ করে।

অপারেশন ডেভিল হান্ট: নোয়াখালীতে যৌথ বাহিনীর ওপর ককটেল নিক্ষেপ

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া ও সেনবাগ উপজেলায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। এ সময় এক যুবলীগ নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে হাতিয়ায় সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে।

গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সেনবাগ উপজেলা যুবলীগের সদস্য দিদারুল ইসলাম দিদার, হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের নবীর উদ্দিন ও ইমাম হোসেন। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিনসহ ১ রাউন্ড গুলি, তিনটি একনলা বন্দুক, ৮টি কার্তুজ, ২০টি ককটেল, দুটি ডেগার, তুনটি ক্রিজ ও একটি তলোয়ার।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টের কমান্ডার আফসার আহমেদ হাতিয়া থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি হতে সারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি প্রতিরোধে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে হাতিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা হাতিয়ার উল্লেখযোগ্য চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি। গতরাতে আমাদের ওপর হামলা করা হলে আমরা আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিই। পরবর্তীতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করি।

আফসার আহমেদ আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে তারা সাধারণ জনগণের ওপর হামলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। বর্তমান সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় অপারেশন ডেভিল হান্টের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ এলাকাসমূহে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

শেখ হাসিনাকে ‘ফুল স্টপ’ করাতে তৎপর ঢাকা


ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে সেখানে থেকে কোনো ধরনের বক্তৃতা-বিবৃতি দিতে না পারেন, তা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ওমানের মাস্কাটে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে বাংলাদেশে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সম্ভাব্য বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকার। এ ছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপকে যে ভালোভাবে দেখা হচ্ছে না, সেটিও জানানো হবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বক্তব্য প্রচার করলে তা ঘিরে দেশে নতুন করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে শেখ পরিবারের সম্পত্তি ধ্বংসের পাশাপাশি শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও কার্যালয়ের ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলে। পরে ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয় ভারত। এমন প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনাকে ‘ফুল স্টপ’ করাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর হয়ে উঠেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, আগামী ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি ওমানের মাস্কাটে ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যোগ দেবেন। কনফারেন্সের সাইড লাইনে তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপকে যে ভালোভাবে দেখার সুযোগ নেই, তা বৈঠকে এস জয়শঙ্করের কাছে তুলে ধরবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। পাশাপাশি ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা যেন বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হবে। মূলত শেখ হাসিনাকে ‘ফুল স্টপ’ করানোতে জোর দেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায়, সেই বার্তাও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। শেখ হাসিনাকে থামানোর পাশাপাশি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত দিতেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বান জানাতে পারেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। এর বাইরে সীমান্ত, ভিসা, তিস্তা ও গঙ্গা চুক্তি নবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

মাস্কাটে ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার। এ ছাড়া কনফারেন্সে যোগ দেওয়া আরও কয়েকটি দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গেও তার বৈঠক হতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

আ.লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশকে মারধর,


নরসিংদীর শিবপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে থানায় ঢুকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যকে মারধর করেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবিদ হাসান জজ মিয়া । পরে ওই নেতাকে আটক করে পুলিশ।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে শিবপুর থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। জজ মিয়া উপজেলার পুবেরগাঁও এলাকার মজি মিয়ার ছেলে এবং শিবপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব।

শিবপুর থানার পুলিশ বলছে, শিবপুর উপজেলার জয়নগরের ইউপি চেয়ারম্যান, আ.লীগ নেতা ও একাধিক মামলার আসামি নাদিম সরকারকে সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাত ১০টার দিকে শিবপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জজ মিয়া দলবল নিয়ে থানায় যান। থানায় গিয়েই হাজতে ঢুকে আওয়ামী লীগ নেতা নাদিম সরকারের সঙ্গে দেখা করতে চান জজ মিয়া। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য সবুজ মিয়া তাকে বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি সবুজ মিয়াকে মারধর করেন। এ সময় উপস্থিত অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হাজতখানার সামনে থেকে সবুজ মিয়াকে উদ্ধার করে এবং জজ মিয়াকে আটক করে। এ সময় জজ মিয়া আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জজ মিয়া বলে, ‘এ থানায় চাকরি করলে তাকে চিনতে হবে। তার কথা শুনতে হবে’ বলেও হুমকি প্রদান করেন। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে রাখে। এ ঘটনায় কনস্টেবল সবুজ মিয়া বাদী হয়ে শিবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শিবপুর থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, থানায় গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ার ফলে তার বিরুদ্ধে কনস্টেবল সবুজ মিয়া মামলা দায়ের করেছে। আমরা তাকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতাকে যেভাবে সাহায্য করেছিল র‍্যাব হেডকোয়ার্টার


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন ছাত্র-জনতাকে কীভাবে র‍্যাব হেডকোয়ার্টার সাহায্য করেছিল তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শাফিন রহমান নামের ফেসবুক আইডি থেকে এই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, গুঞ্জন ওঠে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাবার উদ্দেশে এয়ারপোর্ট থেকে বিমানে উঠবেন। খবরটি বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র-জনতা কুর্মিটোলা রোড, এয়ারপোর্ট, খিলগাঁও থেকে একদম উত্তরা পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে। 


এ সময় এয়ারপোর্ট এরিয়ায় জনতার ওপর মুহুর্মুহু গুলি ছুড়তে থাকে পুলিশ, এপিবিএন। ছত্রভঙ্গ হয়ে ছাত্র-জনতা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে। এয়ারপোর্টের ৯ নম্বর গেটে অবস্থিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর স্থায়ী ব্যারাক থেকে এপিবিএন সদস্যরা বের হয়ে ধাওয়া দিলে ছাত্র-জনতা ৮ নম্বর গেটে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়। মাঝখানে পড়ে যাওয়া জনতার একদিকে র‌্যাব, আরেকদিকে এপিবিএন, অন্যদিকে রাস্তায় পুলিশ। এমতবস্থায় তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।


পোস্টে তিনি লেখেন, এ সময় একজন র‌্যাব কর্মকর্তাকে পাঠানো হয় ছাত্র-জনতাকে অভয় দিয়ে তাদেরকে কনভিন্স করে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের দিকে নিয়ে আসার জন্য। নির্দেশ মোতাবেক ওই কর্মকর্তা অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে পুলিশের লাইভ এমিউনিশনের হাত থেকে বাঁচিয়ে হেডকোয়ার্টারের দিকে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর ভীত, ক্লান্ত পরিশ্রান্ত জনতার জন্য শুকনো খাবার হিসেবে এক প্যাকেট বিস্কিট, একটি মিষ্টি এবং একটি মিনারেল ওয়াটারের বোতল দেওয়া হয়। 


ভিডিওতে আপনারা দেখতে পাবেন, আইল্যান্ডের ওপর বসে সবাই খাবার খাচ্ছেন। অতঃপর তাদের সবাইকেই সেফ এক্সিট দেওয়া হয়। সেদিন র‌্যাবের উক্ত কর্মকর্তারা ব্যাকফায়ার করলে বা নিউট্রাল পজিশন নিলেও মিনিমাম ৪০-৫০ জন স্পট ডেড হয়ে যেত। কিন্তু র‌্যাবের ওই ইউনিট সরাসরি ছাত্র-জনতাকে সাহায্য করেন। এখন প্রশ্ন হলো, র‌্যাবকে আমরা হেলিকপ্টারে করে ফায়ার করতে দেখেছি। তাহলে তাদেরই অফিসাররা কেনো এয়ারপোর্টে ছাত্র-জনতাকে সেফ এক্সিট দিল?

তিনি লেখেন, মূলত আন্দোলনের শুরু থেকেই র‌্যাব হেডকোয়ার্টার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি গ্রুপ সরাসরি ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান না নিলেও ছাত্রদের ওপর গুলি চালাতে অপারগতা জানায়; অন্য একটি গ্রুপ সরাসরি রুলিং গভর্মেন্টের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র-জনতার ওপর ম্যাসাকার চালায়। ছাত্রদের আন্দোলন যখন একরকম নিশ্চিত বার্তা দেয় যে আওয়ামী লীগ আর থাকছে না, তখন র‌্যাবের ওই ইউনিট সরাসরি ছাত্র-জনতার পক্ষ অবলম্বন করে এবং যে গ্রুপটি ছাত্র হত্যায় মেতে উঠেছিল, তাদের এগেইনস্টে ছাত্রদের টেকনিক্যালি হেল্প করে। ভিডিওতে র‌্যাবরে এমন একজন অফিসার (এডিসি) আছেন, যিনি র‌্যাবের আওয়ামীপন্থি অফিসারদের ব্যাপারে ছাত্রদের সফিস্টিকেটেড ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করেছেন। প্রটেস্টরদের জন্য ম্যাপ তৈরি, লাইভ এমিউনিশনের এগেইনস্টে টেক্টিক্যাল মুভ কেমন হওয়া উচিত- এসব তথ্য উপাত্ত দিয়েও সাহায্য করেছেন।

পোস্টে শাফিন রহমান আরও লিখেছেন, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন ‘যে ব্যক্তি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করল সে যেন পুরো পৃথিবীকে হত্যা করল, আর যে ব্যক্তি একজন নিরপরাধ মানুষকে বাঁচিয়ে দিল সে যেন পুরো পৃথিবীকে হত্যার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিল’ (সুরা মায়েদাহ, আয়াত : ৩২) একটা বাহিনীর সবাই ভালো বা সবাই মন্দ হয় না। ভালো মন্দ মিলিয়েই হয়। কিন্তু আমাদের এই আন্দোলনে যে অফিসার একজন নিরপরাধ মানুষের সাহায্যার্থে ছোট্ট একটি তথ্য দিয়েও সহায়তা করেছে, আমরা তাদেরকে আন্দোলনের স্টেকহোল্ডার মনে করি। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যে শাফিন লিখেছেন, ভিডিওটি কনফিডেন্সিয়াল হওয়ার দরুন সব অফিসারের ফেস ব্ল্যার করে দেওয়া হয়েছে এবং বিগত সাত মাসে এই ভিডিওটি কোথাও প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষই প্রথম প্রকাশ করা হলো।                  



নবীনতর পূর্বতন