আজকের সেরা সংবাদ কালেকশন। EXCLUSIVE NEWS

TOP ALL NEWS TODAY

আজকের সেরা সংবাদ কালেকশন

সোমবার ০৪ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১৮ শাবান ১৪৪৬ হিজরি

আজ সারাদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া EXCLUSIVE সংবাদগুলো একসাথে পরপর সাজানো হয়েছে।
 প্রধান শিরোনাম গুলি 

** মৃতের গোসলে বরই পাতা ব্যবহার করা হয় কেন? ** লঞ্চে তাস খেলায় বাধা দেওয়ায় হামলা, আহত ১০** বেক্সিমকোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করবে সরকার ** নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম ** যাত্রাবাড়ীতে পিকআপের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী নিহত ** সিএনজি অটোরিকশাচালকদের জরিমানা ও কারাদণ্ডের নির্দেশনা বাতিল ** সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ** বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন দুই সেল গঠন ** জাতিসংঘ প্রতিবেদনের আলোকে তদন্ত দাবি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের **


 বিস্তারিত সংবাদ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম থেকে সংবাদ গুলো সংগ্রহ করা   হয়। কোনো সংবাদ নকল বা গুজব প্রমাণ করতে পারলে পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হইবে। 


মৃতের গোসলে বরই পাতা ব্যবহার করা হয় কেন ?


কোনো মুসলমান মারা গেলে অপর মুসলমানের ওপর মৃতের গোসল, কাফন, জানাজা, জানাজা বহন ও দাফন করার অবশ্যক হয়ে যায়। 

কেউ মারা গেলে দ্রুতই এই কাজগুলো সম্পাদন করতে হয়। হাদিসে এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত আলী রা.-কে লক্ষ্য করে বলেন, ‘হে আলী! 

তিনটি জিনিসের ক্ষেত্রে বিলম্ব করবে না। ১. নামাজের যখন সময় আসবে তখন নামাজ আদায় করা থেকে দেরি করবে না। ২. মৃত ব্যক্তির জানাজা যখন উপস্থিত হবে তখন কাফন-দাফন সম্পন্ন করতে দেরি করবে না। 

৩. কোন অবিবাহিতা মেয়ের জন্য যখন কোন উপযুক্ত পাত্র পাবে তখন তাকে পাত্রস্থ করা থেকে বিলম্ব করবে না।’ -(তিরমিজি ১/২০৬)

জানাজার দাফন-কাফন একজন মুসলমানের অধিকার। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, 


‘এক মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে—এক. যখন কোনো মুসলমানের সঙ্গে দেখা হয় তখন সালাম দেবে। দুই. কোনো মুসলমান ডাকলে সাড়া দেবে। 


তিন. সে তোমার কাছে সত্ পরামর্শ চাইলে তুমি তাকে সত্ পরামর্শ দেবে। চার. কোনো মুসলমানের হাঁচি এলে হাঁচিদাতা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে। 


পাঁচ. কোনো মুসলমান অসুস্থ হলে তার সেবা-শুশ্রূষা করবে। ছয়. কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজায় শরিক হবে।’ -(মুসলিম, হাদিস,  ২১৬২)


লঞ্চে তাস খেলায় বাধা দেওয়ায় হামলা, আহত ১০


পটুয়াখালী বাউফলে লঞ্চঘাটে তাস খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে যাত্রীবাহী লঞ্চে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। 

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বগা লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকাল সাড়ে ৮টায় সুন্দরবন-১৪ লঞ্চটি বগা ঘাটে পৌঁছালে রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন ব্যক্তি লঞ্চে উঠে স্টাফ ও যাত্রীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। 

এতে লঞ্চের লস্কর ইব্রাহিম (৩০), রহমান (২৮), ফিরোজ (৩০) এবং যাত্রী সুজন (২০), রাতুল (১৭) ও ইশরাফিল (১৮) সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। লঞ্চের সুপারভাইজার মো. ইউনূস বলেন, রোববার সন্ধ্যা ৭টায় লঞ্চটি ঢাকা সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসে। 

রাতে চার যুবক লঞ্চে তাস খেললে তাবলিগ জামাতের কয়েকজন তাদের নিষেধ করেন, যা নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। লঞ্চ স্টাফদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি তখন শান্ত হলেও, পরের দিন সকালে বগা ঘাটে পৌঁছানোর পর পূর্বের ঘটনার জেরে হামলা চালানো হয়।

তাবলিগ জামাতের সদস্য সুজন বলেন, তাদের ৪৫ সদস্যের দলটি সাদপন্থিদের ইজতেমা থেকে বাড়ি ফেরার পথে লঞ্চে ওঠে। রাতে তাস খেলা নিয়ে তাদের আমির মো. ডালিমের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়। 

সকালে রুহুল আমিন ও আরও ২০-২৫ জন লঞ্চে উঠে তাদের ওপর হামলা চালায়। লঞ্চ স্টাফরা বাধা দিলে তাদেরও মারধর করা হয়। 

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে, তবে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

বেক্সিমকোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করবে সরকার 

    • আরও দরকার হবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। 

    • সরকার শ্রমিকদের দিয়েছে ২২৩ কোটি টাকা।


শেয়ার ও সম্পদ বিক্রি নয় বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েও নয়, বেক্সিমকোর লে-অফ কোম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করবে সরকার। 


অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে বেক্সিমকোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই। অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


গত বুধবার ‘বেক্সিমকো শিল্পপার্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম ও ব্যবসায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’র সপ্তম বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 


চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বেক্সিমকোর লে-অফ কোম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে। টাকার ব্যবস্থা হচ্ছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি (আগামীকাল) অনুষ্ঠেয় বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।


সূত্রগুলো জানায়, প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে কাল মঙ্গলবার উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হচ্ছে না। বৈঠক হতে পারে ২৫ বা ২৬ ফেব্রুয়ারি।


তবে পুরো বিষয়টির একটা ফয়সালা হয়ে গেছে গত সপ্তাহেই। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঋণ দেওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক হয় গত বুধবার। এ বৈঠকে তিন সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিষয়টি সুরাহা করার জন্য। 


পরদিন বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন তিন সচিব। তাঁরা হলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, শ্রমসচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। 


তাঁরা সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে আছেন বলে জানা গেছে।


জানতে চাইলে শ্রমসচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, একটা উপায় বের করা হয়েছে। এখনই বলা যাচ্ছে না। 


তবে গত সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে বেক্সিমকোর শ্রমিকদের ২২৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখন আরও দরকার হবে ৫৫০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা। একই প্রক্রিয়ায় সেটাও দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।


সূত্রগুলো জানায়, অসন্তোষ এড়াতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে যে প্রক্রিয়ায় পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিকে যাতে কেউ উদাহরণ হিসেবে না নিতে পারে, সেই চেষ্টা থাকবে সরকারের।


বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান গত ১৩ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। 


২৯ আগস্ট সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, পুত্রবধূ শাজরেহ রহমানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ বেক্সিমকোর ২৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।


এরও দুই মাস পর গত ২৪ নভেম্বর শ্রম উপদেষ্টাকে আহ্বায়ক করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেক্সিমকোর লে-অফ কোম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে সাত দফা বৈঠক করেছে। 


কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ব্যাংকের কাছে বন্ধক থাকা বেক্সিমকো গ্রুপের চালু দুই প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মা ও শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ার, সম্পদ বিক্রি করে গ্রুপটির লে-অফ থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে।


তবে সপ্তম বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কমিটি। সূত্রগুলো জানায়, ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেসব ব্যাংক ঋণ দিয়েছিল, সেসব ব্যাংকই পাওনা পরিশোধ করবে। তিন সচিব সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন, এটাও কোনো বাস্তবায়নযোগ্য উপায় নয়।


বেক্সিমকো গ্রুপের কাছে জনতা ব্যাংক ২৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংক ১ হাজার ৪২৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৪২০ কোটি, রূপালী ব্যাংক ৯৮৭ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক ৩১৫ কোটি, ইউসিবি ৩৩৩ কোটি, এবি ব্যাংক ৯৩৮ কোটি, এক্সিম ব্যাংক ৪৯৭ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৬১ কোটি, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক ৯৪ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংক ৭৮ কোটি এবং বিআইএফএফএল ৮৭ কোটি টাকার পাওনাদার।


বেক্সিমকো শিল্প পার্কের আওতায় থাকা ৩১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো পিপিই এবং আর আর ওয়াশিং চলমান। বাকিগুলোর মধ্যে ১২টি সাময়িক এবং ১৬টি পুরোপুরি বন্ধ। তাদের বিপরীতে ব্যাংকঋণ ২৮ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। 


রপ্তানি ক্রয়াদেশ না থাকা ও কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে না পারায় কারখানাগুলো লে-অফ ঘোষণা করে বেক্সিমকো গ্রুপ। এই ঋণের বিপরীতে জমি, ভবন, যন্ত্রপাতি, শেয়ার, ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ইত্যাদি মিলে বন্ধক রয়েছে মোট ৪ হাজার ৯৩২ কোটি টাকার সম্পদ।


কোম্পানি আইন নিয়ে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহসানুল করিম। সরকারের এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বেক্সিমকোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা কতটুকু ঠিক হচ্ছে, সে বিষয়ে আরও ভাবা দরকার ছিল। 


তিনি মনে করেন, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া চলবে। তবে কারখানাগুলো সচল রাখা দরকার; কিন্তু সরকার সে পথে যাচ্ছে না।



নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম


ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নোয়াখালীতে এক বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গবদ্ধ কয়েকজন সদস্য।

রোববার ( ১৬ই ফেরুয়ারি) সদর উপজেলার বাঁধেরহাট আবদুল মালেক উকিল কলেজের নতুন ক্যাম্পাসে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত মো. কলিম উল্যাহ (৫০) উপজেলার ৩নং নোয়ান্নই ইউনিয়নের গোরাপুর গ্রামের নুরুজ্জামান পাটোয়ারী বাড়ির মো. নুরুজ্জামানের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি।

স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী মো. কলিম উল্যা আবদুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের ফরম পূরণের জন্য কলেজের নতুন ভবনে যায়। সেখানে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে উত্যক্তকারী কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যেকে বাধা দেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আরিফ, রকি, হৃদয়, মামুন ও মিরাজসহ আরও কয়েকজন সঙ্গবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করে এবং প্রকাশ্যে দিবালোকে তাকে ছুরিকাঘাত করে।

ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করেন।

স্থানীয়রা আরও জানায়, দীর্ঘদিন থেকে কিশোর গ্যাংয়ের এই সদস্যরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছে। এছাড়াও যেকোনো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

নোয়ান্নই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে এই অঞ্চলের মানুষ খুবই অতিষ্ঠ। এদের কারণে এর আগে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় মামলাও হয়েছে। কিন্তু ওই সময় প্রশাসন তাদেরকে কঠোরভাবে দমন না করার কারণে আজকে আবার এমন ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

যাত্রাবাড়ীতে পিকআপের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী নিহত


রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে রাস্তা পার হওয়ার সময় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তাদের মেয়ে।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে মাতুয়াইল সাদ্দাম মার্কেটের বিপরীত পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- রুনা আক্তার ও তার স্বামী আব্দুল জব্বার। তাদের মেয়ে জুঁই আক্তার (১৪) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের স্বজনরা জানান, তাদের বাসা রাজধানীর ডেমরা কোনাপাড়া এলাকায়। গ্রামের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায়।

যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহমুদুল হাসান ইরফান জানান, ‘সকালে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রুনা আক্তার। পরে স্থানীয় হাসপাতালে মারা যান আব্দুল জব্বার।’

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।


সিএনজি অটোরিকশাচালকদের জরিমানা ও কারাদণ্ডের নির্দেশনা বাতিল


সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারের ভাড়ার হারের অতিরিক্ত আদায় করলে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশনাটি বাতিল করেছে বিআরটিএ।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।


বিআরটিএ জানায়, ৪ স্ট্রোক থ্রি-হুইলার যান সম্পর্কিত বিআরটিএ কর্তৃক ইস্যুকৃত সাম্প্রতিক নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়েছে। পরে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সিএনজিচালকদের অবরোধ প্রত্যাহার করে যান চলাচলে কোন রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।


এর আগে সকালে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। এতে রাজধানীজুড়ে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণ ভোগান্তির শিকার হয়।


সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিআরটিএ পরিচালক (প্রকৌশল) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানা গেছে, সিএনজি অটোরিকশা চালকরা মিটারের চেয়ে বেশি ভাড়া নিলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এ বিষয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।


পত্রে বলা হয়েছে, গ্যাস বা পেট্রোল চালিত ৪-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার অটোরিকশার জন্য সরকার নির্ধারিত মিটারের ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে মামলা দায়ের করার জন্য অনুরোধ করা হলো।


সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ৩৫(৩) অনুযায়ী, কোনো কন্ট্রাক্ট ক্যারিজের মালিক বা চালক রুট পারমিট এলাকার মধ্যে যেকোনো গন্তব্যে যেতে বাধ্য থাকবেন এবং মিটারে প্রদর্শিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা আদায় করতে পারবেন না। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনের ধারা ৮১ অনুযায়ী, অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।


বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন (প্রথম দুই কিলোমিটার) ভাড়া ৪০ টাকা। এরপর প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১২ টাকা এবং ওয়েটিং বিল প্রতি মিনিটে দুই টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকায় ১৫০ টাকার নিচে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াত করা সম্ভব নয়।


সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন


জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তি থেকে নতুন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন গঠনের প্রক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বিকাল ৪টায় এ সংবাদ সম্মেলনটি হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদারের পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানা গেছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে সোমবার বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হলো বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। গত ১ জুলাই সংগঠনটি সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিক সমন্বয়ককে এই সংগঠনের নেতৃত্বে দেখা গেছে।

যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত রশিদ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সারজিস আলম, ইংরেজি বিভাগের হাসনাত আবদুল্লাহ, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের আসিফ মাহমুদ ও ভূগোল বিভাগের আবু বাকের মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ সোহেল এবং অন্যান্য।


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন দুই সেল গঠন


নতুন দুইটি সেল গঠন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ‘প্রচার ও প্রকাশনা’ এবং ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা’ নামে দুটি নতুন সেল গঠন করা হয়েছে।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সদস্যসচিব আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘প্রচার ও প্রকাশনা’ এবং ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা’ সেল গঠন করা হয়েছে।

১২ সদস্যবিশিষ্ট ‘প্রচার ও প্রকাশনা’ সেলের সম্পাদক করা হয়েছে এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে।

সেলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন- সুলতানা রোজান মির, সাফায়াত হোসেন সাকিব, মো. সোহরাফ হোসেন চৌধুরী, রিসালাত জাকির অনন্য, সিতুল মুনা অর্পি, মো. রুবায়েত হাসান রিমন, আব্দুল মোমিন আশিক, ফয়সাল ওয়াজেদ, মো. ইমরান হোসেন, আমিনুল ইসলাম জীবন ও নাজমুল হোসেন ইমরান।

অন্য দিকে, ১৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা’ সেল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সোহানুর রহমান সোহাগ।

সেলের অন্য সদস্যরা হলেন- মনিরুজ্জামান তুলন, হাবীব হাসান, মো. এনামুল হক, ফুয়াদ হাসান, মো. আব্দুস সালাম নাসিম, মোহাম্মদ আবিদ আনোয়ার, মো. খায়রুল হাসান, হাসিবুল হাসান, মো. মাসুম রানা, সাব্বির আহমেদ অনিক, মো. মহসিন উদ্দিন, ওমর ফারুক (যুবরাজ)।


জাতিসংঘ প্রতিবেদনের আলোকে তদন্ত দাবি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের


জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনের অভিমতের আলোকে তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। গত আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সংঘটিত সব সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং এ সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি তাদের।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।

ঐক্য পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জেনেভা থেকে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে গত বছরের আগস্টের শুরু থেকে পরবর্তী সময়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ও আহমদীয়া মুসলিম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে হত্যা, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ এবং মাজার, মন্দিরসহ ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনার তথ্যের উল্লেখ থাকলেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃত চিত্রের অনুপস্থিতি রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে বিচারহীনতা ও প্রতিশোধের চক্রের মধ্যে রয়েছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের শুরু থেকে যারা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আহমদীয়া মুসলিম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে, তাদের অনেকে দৃশ্যমান দায়মুক্তি পাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্বেগকে ‘যথার্থ’ বলে মনে করে ঐক্য পরিষদ।





নবীনতর পূর্বতন