ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না দিলে আন্দোলন

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না দিলে আন্দোলন


বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ রুখে দেবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া না হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলন, বিএনপিকে নিয়ে যতই ষড়যন্ত্র হোন না কেন, যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি; তাহলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি অবশ্যই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী পুরাতন বাস টার্মিনালে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ফাঁসির রায় থেকে খালাসপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন হাবিবুর রহমান হাবিব।

এসময় তিনি আরও বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আজ আওয়ামী লীগ মাইনাস হয়েছে। এখনো বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। যারাই ষড়যন্ত্র করবে তারাই মাইনাস হয়ে যাবে।

ফাঁসির দণ্ডাদেশ থেকে মুক্ত পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি চলছিল। কিন্তু আজ সব ষড়যন্ত্র ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছি। আমরা সবাই শহীদ জিয়ার সৈনিক। যত সমস্যাই হোক না কেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরাঞ্চলে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে ট্রেনে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ঢোকার সময় ট্রেনবহর লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় নিম্ন আদালত ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জন ছাড়া বাকি সবাই প্রায় দুই মাস আগে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান।৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ৯ জনসহ ৪৭ জনের খালাসের রায় ঘোষণা করেন।

শেখ হাসিনার বিচার চাইতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়ালো ছাত্রদলের দু’গ্রুপ


আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফেনীতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দাগনভূঞা বাজারে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে দু’গ্রুপ মিছিলের ডাক দেয়।

স্থানীয়রা জানান, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জামসেদুর রহমান ফটিক ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আশরাফুল জাবেদ গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। ৫ আগস্টের পর থেকে আধিপত্য নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইমুন হক রাজিব জানান, ফেনী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জামসেদুর রহমান ফটিকের নেতৃত্বে হামলা করা হয়। এতে আহত হন দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কে এম সাইমুন হক রাজিব, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম মানিক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল হক জাবেদ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। এছাড়া বেশ কয়েকজন পথচারীসহ ১০ জন আহত হন।

দাগনভূঞা থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। পরবর্তীতে পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হন তারা। প্রাথমিকভাবে আমরা একজন পথচারী আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। সংঘর্ষে দু’গ্রুপের আহত থাকতে পারে। ধাওয়ায় উভয় গ্রুপ পালিয়ে গেছে।

শেখ হাসিনার বিচার চাইতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়ালো ছাত্রদলের দু’গ্রুপ

এ বিষয়ে জানতে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জামসেদুর রহমান ফটিক ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আশরাফুল জাবেদকে মুঠোফোনে কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন জানান, শুনেছি শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদল একটি মিছিলের ডাক দেয়। সেখানে বিনা উসকানিতে ফটিকের নেতৃত্বে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

নবীনতর পূর্বতন